রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান কতদূর
অতিথি নিউজ ডেস্ক ।।
গত ছয় বছরেও মিয়ানমারে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে হতাশা ক্রমে তীব্র হচ্ছে; এর ফলে ক্যাম্পগুলোতে নানা ধরনের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
অভাব, বেকারত্ব ও হতাশা তাদের অনেককে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে তারা নানা ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড ও সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ছে। এসব কোনো কিছুর সঙ্গেই বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টতা নেই। বাংলাদেশ এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অবিচলভাবে কাজ করে চলেছে।
রোহিঙ্গাদের মাদক পাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিরাপত্তা কর্মকর্তাও নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশ সফলতার সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যার কথা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে জানাতে পেরেছে এবং এ উদ্যোগ চলমান রেখেছে। পৃথিবীর নানা প্রান্তে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে অনেক লেখা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার মূল কারণ এবং টেকসই সমাধান না খুঁজে বাংলাদেশ সরকারের মানবিক কার্যক্রমের প্রশংসা বাদ দিয়ে অনর্থক সমালোচনা করে বাংলাদেশের অবদানকে খাটো করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মানব পাচার, অস্ত্র-মাদক চোরাচালান ও সহিংসতায় ব্যাপকভাবে জড়িয়ে পড়ছে, যা ক্যাম্পের ভেতরে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও অসন্তোষ সৃষ্টি করছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর চাঁদাবাজি এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্বসহ নানা ধরনের অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রত্যাবাসনের পক্ষে সোচ্চার রোহিঙ্গা নেতাদের হত্যা করা হচ্ছে এবং নানা ধরনের হুমকি দিয়ে চাপে রাখা হচ্ছে। দাতাগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের জন্য মাসিক খাদ্য রেশন ১২ ডলার থেকে কমিয়ে ৮ ডলারে নামিয়ে এনেছে, যা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। এ অর্থ ও খাদ্য বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ায় নতুন সংকট তৈরি হয়েছে এবং রোহিঙ্গাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে, উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। বরাদ্দ কমায় ক্যাম্পে দিন দিন আর্থ-সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে। অর্থের জন্য নানা ধরনের অপরাধে জড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা।
ক্যাম্পগুলোতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ায় শরণার্থীদের মানবিক সেবায় নিয়োজিত দেশি ও আন্তর্জাতিক এনজিওর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কে আছে। চলমান মানবিক কার্যক্রম সচল রাখতে ক্যাম্পের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আবশ্যক।