সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফল হিসেবে অনুমোদন পেলো নতুন দুই ধানের জাত

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) তাদের নতুন দুই জাত ধানের জন্য জাতীয় বীজ বোর্ড থেকে অনুমোদন পেয়েছে। এই সূচনা হয়েছে জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১১তম সভায়, যা মঙ্গলবা...

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) তাদের নতুন দুই জাত ধানের জন্য জাতীয় বীজ বোর্ড থেকে অনুমোদন পেয়েছে। এই সূচনা হয়েছে জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১১তম সভায়, যা মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় বোর্ডটি ব্রি দ্বারা উদ্ভাবিত সর্বমোট ১১৫টি ধানের জাতের অনুমোদন দেয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রিমিয়াম কোয়ালিটি এবং উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ ধানের জন্য একটি নতুন পাতা যোগ হয়েছে। ব্রি ধান ১০৭ এবং জিরা টাইপ জাত ব্রি ধান ১০৮, এই দুইটি জাত এখানে অনুমোদন পেয়েছে। সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার ছিলেন সভাপতি, এবং ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নতুন উদ্ভাবিত ব্রি ধান ১০৭ একটি অগ্রগণ্য বালাম জাত, যা বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) কর্তৃক ২০১৫ সালে কৃষকের মাঠ থেকে সংগ্রহ করা হয়। এটি প্রিমিয়াম কোয়ালিটি সম্পন্ন উফশী বালাম জাতের বোরো ধান। ব্রি গাজীপুরের গবেষণা মাঠে নির্বাচিত কৌলিক সারিটি একাধিক বছর সফলভাবে ফলন দেখাচে পরীক্ষণের পর ২০১৯ সালে ব্রির আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে এবং ২০২০ সালে বাংলাদেশের বিভিন্ন কৃষি অঞ্চলে কৃষকের মাঠে পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়েছে। বাংলাদেশে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি (বিপি) দ্বারা ২০২২ সালে স্থাপিত হয়েছে এবং এর সাথে মিলে জাতীয় বীজ বোর্ডের মাঠ মূল্যায়ন দল প্রস্তুত হয়েছে। জাতীয় বীজ বোর্ডের সভায়, সারাদেশে চাষের জন্য একটি উন্নত বালাম জাত ব্রি ধান ১০৭ একটি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির উচ্চ ফলনশীল জাত হিসেবে অনুমোদন পেয়েছে। ব্রি ধান ১০৭ এর পূর্ণবয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১০৩ সেন্টিমিটার। এটি ব্রি ধান ৫০ এর সমান গড় জীবনকাল ১৪৩ দিন, যা ব্রি ধান ৫০ এর চেয়ে প্রায় ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি। এটি প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ৮ দশমিক ১৯ টন। তবে এটি অনুকূল পরিবেশে সঠিক যত্ন নেয়া হলে হেক্টর প্রতি ৯ দশমিক ৫৭ টন পর্যন্ত ফলন হতে সক্ষম। পিভিটি পরীক্ষা অনুযায়ী, ব্রি ধান ১০৭ এর ফলন ব্রি ধান ৫০ এর চেয়ে প্রায় ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি পাওয়া যায়। এ ধানের গুণগতমান ভালো অর্থাৎ চালের আকৃতি অতি লম্বা চিকন (৭.৬ মিলিমিটার)। এ ধানের চালে অ্যামাইলোজ এবং প্রোটিনের পরিমাণ যথাক্রমে ২৯ দশমিক ১ এবং ১০ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, এবং ভাত ঝরঝরে। ব্রি ধান১০৭ এর এক হাজারটি পুষ্ট ধানের ওজন ২৬ দশমিক ১ গ্রাম। এ ধানের দানার রং খড়ের মতো এবং চাল অতি চিকন ও সাদা। উচ্চ ফলনশীল, অতি চিকন চাল ও ভাত ঝরঝরে হওয়ায় বাংলাদেশের মানুষ এ জাত চাষাবাদে ব্যাপক আগ্রহী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন অনুমোদিত ব্রি ধান১০৮ জাতটি বোরো মৌসুমে সারা দেশে চাষের জন্য অনুমোদন করা হয়েছে। এই জাতের গ্রেইন টাইপ জিরা ধানের মতো। প্রতিটি ছড়ায় অধিক সংখ্যক ধান (২৫০-২৭০টি) ঘনভাবে সন্নিবেশিত। আইআর ৮০৫৬১ এবং চীনা ইনব্রেড ৩২১ এর মধ্যে সংকরায়ণ পদ্ধতিতে বিআরএইচ১১-৯-১১-৪-৫বি উদ্ভাবিত হয়। ওই কৌলিক সারিটির গবেষণা কার্যক্রম ব্রিতে ২০১২ সালে শুরু হয়। এনএটিপি প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), গাজীপুর এবং ব্রির আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোর গবেষণা মাঠে এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের মাঠে নানান কৃষি পরিবেশে দীর্ঘ সময় ধরে এই নতুন কৌলিক সারিটির উপযোগিতা, ফলন ও অন্যান্য কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যসমূহের ব্যাপক ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১১তম সভায় এ কৌলিক সারিটি ব্রি ধান১০৮ নামে বোরো মৌসুমে সারা দেশে চাষাবাদের জন্য অবমুক্ত করা হয়। ব্রি ধান১০৮ এর পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১০২ সেন্টিমিটার, এর ডিগ পাতা খাড়া ও গাঢ় সবুজ। একই সঙ্গে হেলে পড়া সহিষ্ণু এবং জীবনকাল ১৪৯ থেকে ১৫১ দিন। এই জাতের গ্রেইন টাইপ জিরা ধানের মতো। জাতটি কৃষকদের ভালো বাজার মূল্য পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে উদ্ভাবন করা হয়ছে। ব্রি ধান১০৮ এ উচ্চ ফলন ও ফাইন গ্রেইন এর সমন্বয় ঘটেছে এবং এ জাতটি চাষাবাদে ব্যাপক আগ্রহ উত্তীর্ণ করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।