পাট চাষে লোকসানের মুখে মেহেরপুরের কৃষকবাসী

প্রতিনিধি ডেস্ক:

মেহেরপুর জেলায় অধিকাংশ মানুষ পাট চাষ করে থাকেন। দিন দিন পাট চাষে ব্যাহত হচ্ছে পাট চাষীরা, পাটের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া, খাল-বিল ভরাট, অনাবৃষ্টি, শ্রমিক সংকটসহ নানা প্রতিকূলতায় প্রতি বছরই কমেছে পাটের আবাদ। পরিকল্পনার অভাব ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার কারণে বার বার ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষক। যে কারণে পাটের পরিবর্তে জেলার কৃষকরা এখন ঝুঁকছেন সবজি চাষে। কৃষি বিভাগ বলছে, পাটচাষে আগ্রহী করার জন্য চাষিদের প্রণোদনাসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও বিকল্প পদ্ধতিতে পাট পচানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।  মেহেরপুর জেলার কৃষি অফিস থেকে জানা গেছে, জেলায় চলতি বছরে মেহেরপুরে পাট চাষ হয়েছে ১৬ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে। অথচ, পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২২ হাজার হেক্টর জমিতে। এ বছরে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হাজার ৩৭০ হেক্টর কম চাষ হয়েছে।  কৃষি বিভাগ জানায়, জেলায় জেআরও ৫২৪, বি জে আর আই তোষাপাট-৮, ভারতীয় কৃষি কল্যাণ, মহারাষ্ট্র ও চাকা জাতের পাট আবাদ করে থাকেন চাষিরা। চাষিদের দাবি, হাজা-মজা, খাল-বিল সংস্কার করে পানি প্রবাহ ঠিক রাখলে পাট পচানো সম্ভব। চাষিরা উন্মুক্ত জলাশয়ে পাট জাগ দিতে পারলে পাট চাষ বাড়বে। মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার (ডিডি) কৃষিবিদ বিজয় কৃষ্ণ হালদার বলেন, চলতি মৌসুমে পাটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। অনাবৃষ্টির কারণে অনেকেই পাট বীজ বপন করতে পারেননি। আর যারা আবাদ করেছেন, পানির অভাবে পাটগাছ বাড়েনি।  অন্যদিকে, পাট পচানো নিয়েও চাষিরা নানা বিড়ম্বনায় পড়েন। তবুও চাষিদের প্রণোদনাসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হচ্ছে পাট চাষে আগ্রহী করে তোলার জন্য। বিকল্প পদ্ধতিতে পাট পচানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।