লটকন আর আলু বোখারা চাষে বাজিমাত

অতিথি নিউজ ডেস্ক :

নীলফামারীতে লটকন আর আলু বোখরা ভালো চাষ করে তাক লাগিয়ে দিলেন বাবুল সরকার। এলাকাবাসী জানান সৈয়দপুর উপজেলার বাগান মালিক বাবুল সরকার লটকন আর আলু বোখারা চাষ করে বাজিমাত করেছেন । তিনি বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর চড়কপাড়ার উকিলবাড়ির বাসিন্দা। বাগানের ফল বিক্রি করে প্রতিদিনই ভালো আয় করছেন তিনি। বাবুল সরকার সৈয়দপুরে রেলের হিসাব বিভাগে চাকরি করে অবসর নেন। সৈয়দপুরের দক্ষিণ নিয়ামতপুর এলাকায় গড়ে তোলেন বাসাবাড়ি। গ্রামের বাড়ি লক্ষণপুরে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া প্রায় ৬০ শতাংশ জমিতে গড়ে তুলেছেন মিশ্র ফলের বাগান। তার বাগানে রয়েছে লটকন, আলু বোখারা, কদবেল, বেদানা, ডালিম, বিভিন্ন জাতের আম, জামসহ নানা জাতের ফলের গাছ। বাগানে বিভিন্ন জাতের আমের মধ্যে রয়েছে হাঁড়িভাঙ্গা, মিসরি ভোগ, ল্যাংড়া।  বাগানের মালিক বাবুল সরকার জানান, চাকরি থেকে অবসরে গিয়ে বসে না থেকে মিশ্র বাগান করেছি। ফল ব্যবসায়ীরা বাগানে এসে ফল কিনে নিয়ে যান।  তিনি বলেন, বেলে ও দো-আঁশ মাটিতে লটকনের ফলন ভালো হয়। লটকন ফলনে তেমন কোনো খরচ নেই। গাছ লাগিয়ে একটু পরিচর্যা করতে হয়। গাছের গোড়ার চারদিকে জৈব সার দিলে ফলন ভালো হয়। সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু মো. আলেমুল বাসার জানান, ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, সোডিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ আলু বোখারায় রয়েছে ফ্যাট, প্রোটিন, ভিটামিন এ, বি, সি, কে এবং ই। লটকন ফল রুচি বাড়াতে ও মানসিক অবসাদ দূর করতেও সাহায্য করে। ত্বক, দাঁত এবং হাড় মজবুত করতে লটকন মৌসুমী ফলের মধ্যে অন্যতম। সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, যে কোনো ফলের চেয়ে, অনেক লাভজনক লটকন চাষ করা। এর স্বাদ টক-মিষ্টি। এখন ফলটি বাজারে বেশ দেখা যাচ্ছে এবং দামও চড়া। চাষাবাদে কম খরচ, কম পরিচর্যা ও লাভজনক হওয়ায় এখানে লটকনের আবাদ বেড়েই চলেছে। লটকন চারা লাগানোর তিন থেকে চার বছরেই ফল ধরে গাছে। রাসায়নিক সার বা কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। এছাড়া অপ্রচলিত আলু বোখারার চাষও শুরু হয়েছে এখানে।