৬ গোলের মহারণে আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়ার রোমাঞ্চকর ড্র, বিদায় নিল ইরান
কানসাস সিটির রাতটা যেন ফুটবলের জন্যই লেখা ছিল। গ্যালারিতে বসা হাজারো দর্শক জানতেন ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শেষ কয়েক মিনিটে যে এমন এক অবিশ্বাস্য নাটক মঞ্চস্থ...
কানসাস
সিটির রাতটা যেন ফুটবলের জন্যই লেখা ছিল। গ্যালারিতে বসা হাজারো দর্শক জানতেন ম্যাচটি
গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শেষ কয়েক মিনিটে যে এমন এক অবিশ্বাস্য নাটক মঞ্চস্থ হবে, তা কেউ
কল্পনাও করেননি। নির্ধারিত সময়ের পর মাত্র ছয় মিনিটে বদলে গেছে তিনবার ম্যাচের ভাগ্য।
শেষ পর্যন্ত আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া ৩-৩ গোলে ড্র করে নকআউট নিশ্চিত করেছে, আর হৃদয়ভাঙা
বিদায় নিতে হয়েছে ইরানকে।শুরু
থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে দুই দল। ম্যাচের ২৮তম মিনিটে মার্কো আরনাউটোভিচের
গোলে এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া। তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে রাফিক বেলঘালির দারুণ এক ফিনিশে
সমতায় ফেরে আলজেরিয়া। প্রথম ৪৫ মিনিটেই স্পষ্ট হয়ে যায়, এই ম্যাচে শেষ বাঁশি বাজার
আগে কিছুই নিশ্চিত নয়।বিরতির
পর আবারও লিড নেয় অস্ট্রিয়া। ৫৫ মিনিটে মার্সেল সাবিৎসারের দুর্দান্ত শটে স্কোরলাইন
দাঁড়ায় ২-১। কিন্তু পাঁচ মিনিটও সেই আনন্দ টেকেনি। ৬০তম মিনিটে রিয়াদ মাহরেজ গোল করে
আবারও ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনেন।এরপর
সময় গড়াতে থাকে, আর বাড়তে থাকে উত্তেজনা। ম্যাচ যখন ২-২ সমতায় শেষ হওয়ার পথে, তখনই
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে মাহরেজ নিজের দ্বিতীয় গোল করে আলজেরিয়াকে ৩-২ ব্যবধানে
এগিয়ে দেন। সেই মুহূর্তে অস্ট্রিয়া বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে, আর দূরে বসে ইরানের সমর্থকদের
মুখে ফুটে ওঠে আশার আলো।কিন্তু
ফুটবল যে শেষ বাঁশির আগ পর্যন্ত অনিশ্চয়তার খেলা, সেটি আরও একবার প্রমাণ করেন বদলি
ফরোয়ার্ড সাসা কালাইজিচ। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে তাঁর শক্তিশালী হেড জড়িয়ে যায় আলজেরিয়ার
জালে। ৩-৩ সমতায় ফেটে পড়ে কানসাসের গ্যালারি। সেই এক গোলেই বদলে যায় পুরো গ্রুপের হিসাব।
অস্ট্রিয়া নিশ্চিত করে শেষ ৩২-এর টিকিট, আলজেরিয়াও সেরা তৃতীয় স্থানধারী দল হিসেবে
এগিয়ে যায়। আর সব হিসাব মিলিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে যায় ইরানের।ম্যাচটি
শুধু একটি ড্র নয়, এটি ছিল বিশ্বকাপের নাটকীয়তার এক অনন্য উদাহরণ। শেষ কয়েক মিনিটে
আবেগ, উত্তেজনা, স্বপ্ন আর হতাশা একসঙ্গে দেখেছে ফুটবল বিশ্ব। একদিকে উল্লাসে ভেসেছে
আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া, অন্যদিকে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ইরানের সমর্থকেরা।
কানসাস
সিটির এই রাত দীর্ঘদিন মনে রাখবে ফুটবলপ্রেমীরা। কারণ, এমন ম্যাচই মনে করিয়ে দেয় কেন
বিশ্বকাপকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে অনিশ্চিত এবং রোমাঞ্চকর ক্রীড়া আসর।