গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন উত্তেজনা: ট্রাম্পের দূত নিয়োগে ক্ষুব্ধ ডেনমার্ক
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি তিনি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আবারও আলোচনায় এসেছেন—এই...
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি তিনি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আবারও আলোচনায় এসেছেন—এইবার বিষয়টি আরও এগিয়ে নিয়েছেন একজন বিশেষ দূত নিয়োগের মাধ্যমে। ফলে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গ্রিনল্যান্ড, আর্কটিক মহাসাগরের এক বিশাল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ, যা বর্তমানে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। এর প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভৌগোলিক অবস্থানকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘদিন ধরেই এটি ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্প বলেছেন, আমাদের এটা সমাধান করতে হবে। আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড দরকার, খনিজ সম্পদের জন্য নয়। ট্রাম্প বিশেষভাবে নিকটবর্তী সমুদ্রে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে চীনা এবং রাশিয়ান জাহাজের কথা উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প অতীতেও একাধিকবার গ্রিনল্যান্ড কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এবার তিনি একধাপ এগিয়ে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য একজন প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছেন, যার মাধ্যমে দ্বীপটির রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রায় ৫৭ হাজার জনসংখ্যার গ্রিনল্যান্ড ১৯৭৯ সাল থেকেই স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে। তবে, প্রতিরক্ষা এবং পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখনও ডেনিশদের হাতেই রয়েছে।জনমত জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের বেশিরভাগ বাসিন্দা ডেনমার্ক থেকে চূড়ান্ত স্বাধীনতার পক্ষে। একই সঙ্গে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ারও তীব্র বিরোধিতা করেছে। ল্যান্ড্রির নিয়োগকে খুবই বিরক্তিকর বলে বর্ণনা করেছেন ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন এবং ওয়াশিংটনকে ডেনিশ সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেও সতর্ক করেছেন তিনি।
ডেনমার্ক এই উদ্যোগকে অযাচিত হস্তক্ষেপ ও অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলা হয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রয়ের বিষয় নয়,এটি ডেনমার্কের অংশ এবং এখানে কোনো বিদেশি আগ্রাসনের সুযোগ নেই। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। একইসঙ্গে এটি আর্কটিক অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
বলা যায়, গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে আবারও জটিল আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাব পড়তে পারে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতির ওপর।