চাহিদা বাড়ছে, আমদানি কমছে: এলপিজি নিয়ে ভোগান্তিতে ভোক্তারা
দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) চাহিদা প্রতিবছর গড়ে ১০ শতাংশের বেশি হারে বাড়ছে। কিন্তু চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় বাজারে...
দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) চাহিদা প্রতিবছর গড়ে ১০ শতাংশের বেশি হারে বাড়ছে। কিন্তু চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে। চলতি সময়ে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দ্বিগুণ হলেও অনেক জায়গায় ভোক্তারা প্রয়োজনমতো গ্যাস পাচ্ছেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে এলপিজির চাহিদা মেটাতে আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি কমে যাওয়ায় সংকট আরও প্রকট হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, দেশে এলপিজি আমদানি কমেছে প্রায় দেড় লাখ টন। এর ফলে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভোক্তাদের ওপর।
যদিও দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে এলপিজি আমদানি বেড়েছে প্রায় ৩ লাখ ৩৬ হাজার টন। এরপরও চাহিদা বৃদ্ধির হার বেশি হওয়ায় এই বাড়তি আমদানিও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে শহর ও আধা-শহর এলাকায় রান্নার জন্য এলপিজির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায় সংকট আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে এলপিজি কিনতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও খালি সিলিন্ডার নিয়েও নতুন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মধ্য ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এলপিজির চাহিদা আরও বাড়বে। তাই সময়মতো আমদানি পরিকল্পনা ও মজুত সক্ষমতা না বাড়ানো হলে সংকট আরও গভীর হতে পারে। পাশাপাশি বাজার তদারকি জোরদার না করলে অতিরিক্ত দাম আদায় ও কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কাও থেকে যাবে।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত আমদানি বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাজারে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।