২৩ ঘণ্টার নাটকীয় অভিযানে মা-বাবার কোলে ফিরল মিরপুরের শিশু মুসকান
মুন অ্যালার্টে মানবিক জয় নিখোঁজের মাত্র ২৩ ঘণ্টার মধ্যেই মিরপুর থেকে হারিয়ে যাওয়া শিশু মুসকানকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহি...
মুন অ্যালার্টে মানবিক জয়
নিখোঁজের মাত্র ২৩ ঘণ্টার মধ্যেই মিরপুর থেকে হারিয়ে যাওয়া শিশু মুসকানকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সিআইডির ‘মুন অ্যালার্ট’, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ডিজিটাল সহায়তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত প্রচারণায় সম্ভব হয়েছে এই মানবিক সাফল্য।
গত ১৪ জানুয়ারি বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ঢাকার মিরপুর ১২ নম্বর সেকশন থেকে মুসকান ও তার ভাই নিখোঁজ হয়। ঘটনার পরপরই পরিবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালে সিআইডির পক্ষ থেকে ঝুঁকি মূল্যায়ন শেষে জারি করা হয় জরুরি সতর্কবার্তা ‘মুন অ্যালার্ট’। একই সঙ্গে ডিজিটাল বিলবোর্ড ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শিশুটির ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
নিখোঁজ হওয়ার পরদিন রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে একটি লঞ্চে অবস্থানরত অবস্থায় মুসকানকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে নিরাপদে তার বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মুসকানের বাবা মো. জুয়েল মাহমুদ জানান,আমার বাসা ও মুসকানের নানার বাসা মিরপুর সেকশন ১২ তে পাশাপাশি। আরিফ নামের এক পরিচিত ছেলে প্রথমে বাসায় এসে খাতির জমায়। পরে পার্কে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আমার ছেলে মেয়েকে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে সে আমার ছেলে সাঈদকে মিরপুর ১২ নম্বর মেট্রো স্টেশনের কাছে চিপস কিনতে পাঠায়। সেই সুযোগে সে আমার মেয়ে মুসকানকে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আমার ছেলে স্থানীয় মানুষের সহায়তায় বাসায় ফিরে পুরো ঘটনা জানায়।
সিআইডি জানায়, নিখোঁজ শিশুসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য পাওয়া মাত্রই টোল ফ্রি হেল্পলাইন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা সিআইডির মিসিং চিলড্রেন সেল ০১৩২০০১৭০৬০ নম্বরে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য দ্রুত যাচাই করে ঝুঁকি অনুযায়ী মুন অ্যালার্টজারি করা হয়।
এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মানুষের সচেতন সহযোগিতা একত্র হলে নিখোঁজ শিশুকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব।