ট্রাম্পের কারণে বিশ্বকাপ বয়কটের আলোচনা তুঙ্গে, ইউরোপে বাড়ছে চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে বিতর্কের জেরে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের দাবি ইউরোপে নতুন করে জোরালো হচ্ছে। জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়াম...

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে বিতর্কের জেরে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের দাবি ইউরোপে নতুন করে জোরালো হচ্ছে। জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়াম—এই তিন দেশের ফুটবল মহলে বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। জার্মানির ক্রীড়ামন্ত্রী ক্রিস্টিয়ানে শেন্ডারলাইন গত সপ্তাহে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জার্মান ফুটবল কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে জানান,ফেডারেল সরকার সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাবে। এদিকে নেদারল্যান্ডসে বিশ্বকাপ বয়কটের দাবিতে শুরু হওয়া একটি অনলাইন পিটিশনে ইতিমধ্যে ১ লাখ ৪২ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে, যে প্রেসিডেন্ট একটি মিত্রদেশকে আক্রমণের হুমকি দেন, তাঁর আয়োজিত টুর্নামেন্টে আমাদের ফুটবলারদের অংশ নেওয়া উচিত নয়। এই ধারাবাহিকতায় আলোচনায় এসেছে বেলজিয়াম ফুটবল দলের সম্ভাব্য বয়কট প্রসঙ্গও। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বেলজিয়ামের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচের মধ্যে দুটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রে। এ নিয়ে বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানায়,আমরা আপাতত বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতেই মনোযোগ দিচ্ছি। তবে খেলাধুলার বাইরের পরিস্থিতির দিকেও আমাদের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে। বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টি ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থার (উয়েফা) অন্দরমহলেও আলোচিত হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গত সোমবার বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত উয়েফার এক বৈঠকে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো একটি সম্ভাব্য পথ হতে পারে—এমন বিষয়ে একটি নীতিগত ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। বিষয়টি আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি ব্রাসেলসে উয়েফার নির্বাহী কমিটির বৈঠকে আলোচনায় উঠতে পারে। পরদিন একই শহরে অনুষ্ঠিত হবে উয়েফার বার্ষিক কংগ্রেস। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক জঁ-মিশেল বলেন, বয়কট সম্ভব না হলেও দলগুলো বিশ্বকাপে গিয়ে বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ জানাতে পারে। বিশ্বকাপ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়া কঠিন হলেও নীরব থাকা কোনো সমাধান নয়। উল্লেখ্য, ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এটি উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি শহরে যৌথভাবে আয়োজন করা হবে। তবে রাজনৈতিক বিতর্ক ও সম্ভাব্য বয়কটের কারণে এবারের বিশ্বকাপ যে মাঠের বাইরেও উত্তাপ ছড়াবে, তা এখনই স্পষ্ট।