১৪৯ মিলিয়ন লগইন তথ্য ফাঁস: বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তায় বড় সতর্কবার্তা
বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে ১৪৯ মিলিয়নের বেশি ব্যবহারকারীর লগইন তথ্য ফাঁসের ঘটনা। উন্মুক্ত অবস্থায় পাওয়া একটি বিশাল ডাটাবেজে ইমেইল ঠি...
বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে ১৪৯ মিলিয়নের বেশি ব্যবহারকারীর লগইন তথ্য ফাঁসের ঘটনা। উন্মুক্ত অবস্থায় পাওয়া একটি বিশাল ডাটাবেজে ইমেইল ঠিকানা, ইউজারনেম, সরাসরি পাসওয়ার্ড এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের লগইন লিংক পাওয়া গেছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তথ্যগুলো সাইবার অপরাধীদের জন্য প্রস্তুত টার্গেট তালিকার মতো কাজ করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই তথ্য কোনো একদিনে চুরি হয়নি; বরং দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ডিভাইসে প্রবেশ করা ‘ইনফোস্টিলার’ ধরনের ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে ধাপে ধাপে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
ফাঁস হওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি তথ্য ছিল ইমেইল অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত। এর মধ্যে Google এর জিমেইল সেবার তথ্য প্রায় ৪৮ মিলিয়ন, Meta Platforms এর ফেসবুক প্ল্যাটফর্মের তথ্য প্রায় ১৭ মিলিয়ন, Instagram এর তথ্য প্রায় ৬.৫ মিলিয়ন, Yahoo মেইলের প্রায় ৪ মিলিয়ন তথ্য, Netflix এর প্রায় ৩.৪ মিলিয়ন, Microsoft এর আউটলুক সেবার প্রায় ১.৫ মিলিয়ন, Apple এর আইক্লাউড মেইলের প্রায় ৯ লাখ এবং ByteDance এর টিকটক প্ল্যাটফর্মের প্রায় ৭.৮ লাখ তথ্য ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ডাটাবেজে ইমেইল, সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার বিপুল পরিমাণ লগইন তথ্য একত্রে পাওয়া গেছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, একটি ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে ঝুঁকি শুধু ইমেইল পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। কারণ অধিকাংশ অনলাইন সেবার পাসওয়ার্ড রিসেট লিংক ইমেইলে পাঠানো হয়। ফলে হ্যাকাররা চাইলে ব্যবহারকারীর সোশ্যাল মিডিয়া, ব্যাংকিং, ক্লাউড স্টোরেজসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টও দখল করতে পারে। এছাড়া ব্যক্তিগত নথি, বিল, ভ্রমণের তথ্য এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্যও চুরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এই ধরনের ইনফোস্টিলার ম্যালওয়্যার সাধারণত ভুয়া সফটওয়্যার আপডেট, সন্দেহজনক ইমেইল অ্যাটাচমেন্ট, ক্ষতিকর ব্রাউজার এক্সটেনশন বা বিভ্রান্তিকর অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছড়ায়। ব্যবহারকারী যখন কোনো ওয়েবসাইটে পাসওয়ার্ড টাইপ করেন বা ব্রাউজারে সংরক্ষণ করেন, তখনই এসব তথ্য চুরি হয়ে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী বুঝতেও পারেন না যে তার ডিভাইস ইতোমধ্যে ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত হয়েছে।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ডাটাবেজটি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট হোস্টিং কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও প্রায় এক মাস এটি উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল। এতে বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারীর তথ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সার্ভার নিরাপদ হলেও ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ডিভাইস দুর্বল হলে তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি থেকেই যায়।
বিশেষজ্ঞরা ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা, একাধিক সাইটে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করা, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা, সন্দেহজনক লিংক বা ফাইল এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট রাখার মাধ্যমে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত তথ্যই সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে উঠেছে, তাই ব্যক্তিগত সাইবার সচেতনতা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।