২০২৬ সালের প্রথম ‘রিং অব ফায়ার’ সূর্যগ্রহণ: আকাশে বিরল মহাজাগতিক বিস্ময়

আজ মঙ্গলবার আকাশে দেখা যাচ্ছে ২০২৬ সালের প্রথম সূর্যগ্রহণ, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ভাষায় অ্যানুলার সোলার এক্লিপস বা সহজভাবে “রিং অব ফায়ার” নামে পরিচিত। এই ধরনের...

আজ মঙ্গলবার আকাশে দেখা যাচ্ছে ২০২৬ সালের প্রথম সূর্যগ্রহণ, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ভাষায় অ্যানুলার সোলার এক্লিপস বা সহজভাবে “রিং অব ফায়ার” নামে পরিচিত। এই ধরনের সূর্যগ্রহণে চাঁদ সূর্যের সামনে চলে এলেও সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে পারে না। কারণ এ সময় চাঁদ পৃথিবী থেকে তুলনামূলক দূরে থাকে, ফলে আকারে কিছুটা ছোট দেখায় এবং চাঁদের চারপাশে সূর্যের উজ্জ্বল আগুনের মতো বলয় দৃশ্যমান হয়। এই সূর্যগ্রহণটি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সংঘটিত হচ্ছে এবং এটি চলতি বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বলয় আকৃতির দৃশ্য সর্বোচ্চ প্রায় ২ মিনিট ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, যেখানে সূর্যের প্রায় ৯৬% অংশ ঢেকে যায়। এই গ্রহণের পূর্ণ বলয় (রিং অব ফায়ার) কেবল পৃথিবীর একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ পথে দেখা যাবে। প্রায় ২,৬৬১ মাইল দীর্ঘ এবং প্রায় ৩৮৩ মাইল প্রশস্ত এই পথ মূলত অ্যান্টার্কটিকার ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। ফলে সরাসরি পূর্ণ বলয় দেখার সুযোগ খুব সীমিত থাকবে এবং মূলত গবেষক বা ওই অঞ্চলে অবস্থানকারীরাই তা দেখতে পারবেন। তবে আংশিক সূর্যগ্রহণ দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ এবং আশপাশের সমুদ্র অঞ্চলে দেখা যেতে পারে। এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা মহাকাশপ্রেমী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন সূর্যগ্রহণ কখনোই খালি চোখে দেখা উচিত নয়। নিরাপদে দেখতে হলে অবশ্যই অনুমোদিত সোলার ইক্লিপস গ্লাস বা বিশেষ ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে। মহাকাশের এই বিরল সৌন্দর্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় মহাবিশ্বের রহস্য ও বিস্ময় এখনও কতটা গভীর এবং অজানা।