রমজানে রাজধানীতে তীব্র গ্যাস–সংকট, চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী
পবিত্র রমজান মাসে রাজধানীজুড়ে তীব্র গ্যাস–সংকট দেখা দিয়েছে। দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক এলাকায় রান্নাবান্না কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে স...
পবিত্র রমজান মাসে রাজধানীজুড়ে তীব্র গ্যাস–সংকট দেখা দিয়েছে। দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক এলাকায় রান্নাবান্না কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সেহরি ও ইফতারের সময় গ্যাস না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। অনেক বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না, আবার কোথাও খুব কম চাপে সামান্য সময়ের জন্য গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলা কিংবা হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভর করছেন।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়–এর তথ্য অনুযায়ী, সব খাত মিলিয়ে দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট। এতে প্রতিদিন প্রায় ১১৫ কোটি ঘনফুট ঘাটতি থাকছে। এই ঘাটতির প্রভাব পড়ছে বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও পরিবহন খাতে।
এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের একটি টার্মিনাল বন্ধ করা হয়। এর পরপরই রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি টার্মিনালটি পুনরায় চালু হলেও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লেগেছে। গত রোববার থেকে আগের পর্যায়ে সরবরাহ ফেরার কথা জানানো হয়েছে। তবে ২৪ বা ২৫ ফেব্রুয়ারি আবারও রক্ষণাবেক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। এবার পুরোপুরি বন্ধ না করে সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে কাজ চালানোর কথা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রমজানে ভোররাতে সেহরি প্রস্তুতের সময় এবং বিকেলে ইফতারের আগে গ্যাস না থাকায় তারা চরম বিপাকে পড়ছেন। অনেকেই গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও রান্না করতে পারছেন না। এতে করে শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে পরিবারগুলো বেশি কষ্টে পড়ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাসের চাপ কম থাকলেও রমজানে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে। তারা দ্রুত সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন। নগরবাসীর প্রত্যাশা, পবিত্র এ মাসে অন্তত নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।