২৩ দেশ থেকে ৯২ হাজার টন খেজুর আমদানি, মধ্যপ্রাচ্যেই ৮৮.৫৯ শতাংশ নির্ভরতা
বাংলাদেশের খেজুর বাজারে মধ্যপ্রাচ্যের প্রাধান্য থাকলেও আমদানির উৎসে ধীরে ধীরে বৈচিত্র্য বাড়ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে বাংল...
বাংলাদেশের খেজুর বাজারে মধ্যপ্রাচ্যের প্রাধান্য থাকলেও আমদানির উৎসে ধীরে ধীরে বৈচিত্র্য বাড়ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে বাংলাদেশ বিশ্বের মোট ২৩টি দেশ থেকে প্রায় ৯২ হাজার টন খেজুর আমদানি করেছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোট আমদানির ৮৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশ থেকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইরাক, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব। এসব দেশ দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের খেজুর আমদানির প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত।
অন্যদিকে আফ্রিকার চারটি দেশ থেকে এসেছে মোট আমদানির ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এর মধ্যে রয়েছে তিউনিসিয়া, মিসর এবং আলজেরিয়া। আফ্রিকার খেজুর বিশেষ করে প্রিমিয়াম মান ও ভিন্ন স্বাদের জন্য বাজারে আলাদা চাহিদা তৈরি করছে।
বাকি প্রায় ২ শতাংশ খেজুর আমদানি হয়েছে বিশ্বের আরও ১৩টি দেশ থেকে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, চীন ও জাপান। যদিও এসব দেশের অংশ তুলনামূলকভাবে কম, তবু আমদানির তালিকায় তাদের উপস্থিতি বাজারের বহুমুখীকরণের ইঙ্গিত দেয়।
আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে বর্তমানে বাজারে ১৫ থেকে ২০ ধরনের খেজুর পাওয়া যায়। এর মধ্যে আজওয়া, মাবরুম, মরিয়ম, ডেগলেট নূর, সুফরি, খালাসসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় জাত রয়েছে। রমজানকে কেন্দ্র করে চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়, ফলে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা এখনো বেশি থাকলেও বিকল্প উৎস খোঁজার প্রবণতা বাড়ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে দামের ওঠানামা ও সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে আমদানিকারকেরা নতুন নতুন দেশ থেকে খেজুর সংগ্রহে আগ্রহী হচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে, অন্যদিকে ভোক্তারা পাচ্ছেন বেশি বিকল্প ও দামের ভিন্নতা।