মানবাধিকার দিবসে ফিলাফ’র মত বিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবদক ।। ঢাকা ::
রবিবার ৭৫তম বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে রাজধানীর পুলিশ প্লাজার অতিথি হল রুমে মত বিনিময় ও আলোচনা সভার আয়োজন করে পজিটিভ হেলথ এডুকেশন ও ল্যিগ্যাল এইড ফাউন্ডেশন-ফিলাফ। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য মর্যাদা, স্বাধীনতা ও ন্যায় বিচার’ বিষয়ে বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ফিলাফ’র চেয়ারম্যান লায়ন সাইফুল ইসলাম সোহেল।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, মানুষের অধিকার সুনিশ্চিতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি একটি বড় ইস্যু। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও মানবাধিকারকে পরিপূরক বলা যায়। একটি অপরটিকে শক্তিশালী করে তোলে এবং মানুষ নিজের মৌলিক ও সামাজিক চাহিদা পূরণে সক্ষম হলেই অন্যান্য বিষয় নিয়ে ভাবতে পারে। অপরাপরের উপকার, দেশ সেবা ও উন্নত মানসিকতা গঠনের অনুপ্রেরণা আসে নিজের সচ্ছলতার উপর। আইন না মানার ও অন্যকে ঠকিয়ে নিজে লাভবান হওয়ার চেষ্টাও তখন কমে আসে। নিজের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি অন্যের অধিকারহানিতেও সোচ্চার হয়। বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে বিশ্বের অভাবনীয় উন্নয়নের সাথে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়েও মানুষ এখন অনেকটা সোচ্চার। বাংলাদেশও সে অর্থে পিছিয়ে নেই।
লায়ন সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়নমুখী বিভিন্ন উদ্যোগ ও তা বাস্তবায়নের ফলে মানুষের প্রত্যাশাও বেড়েছে অনেকগুন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুগান্তকারী একেকটা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। কেননা উন্নত অর্থনীতিতে মানবাধিকার আরও ভালোভাবে বিকাশ লাভ করতে পারে। একই সাথে মানবিক উন্নয়নের সঙ্গে শিক্ষার বিকাশ ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির সম্পর্কও গভীর। এগুলোর বিকাশ ঘটলে মানবাধিকার লঙ্ঘন বা অস্বীকারের সংস্কৃতি গড়ে ওঠতে পারে না।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রকল্প পরিচালক লায়ন ডঃ মাহবুবুর রহমান খান ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্ব এখন অনেক দূর এগিয়ে গেলেও ধর্মীয় ও মানবতার দিক থেকে অনেক উন্নত দেশের মানসিকতার কোন পরিবর্তন হয়নি। গোঁড়ামি নীতির কারনে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি নীরিহ নারী-শিশুর জীবন আজ বিপন্ন। বিশ্ব বিবেককে অনুরোধ করছি, দয়া করে তাদের পাশে দাঁড়ান। আলোচনার এক পর্যায়ে মানবাধিকার বিষয়ে স্বরচিত একটি কবিতা আবৃত্তি করে শোনান।
অতিথি পরিবার।
সভাপতির বক্তৃতায় সংগঠনটির পরিচালক লায়ন ডঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ২য় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত একটি ঘোষণাপত্র বা আন্তর্জাতিক দলিল প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, যা সমস্ত মানুষের অধিকার এবং স্বাধীনতাকে সংহত করে। আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট এলিয়ানর রুজভেল্টের সভাপতিত্বে ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৮ সালে মানবাধিকারের উপর সার্বজনীন ওই ঘোষণার খসড়া সিদ্ধান্তটি অনুমোদিত হয়। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় ফ্রান্সের প্যারিসে।
ডঃ সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, এই ঘোষণায় একজন ব্যক্তির "মৌলিক অধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতা" সম্পর্কে বিস্তারিত ৩০টি প্রবন্ধ রয়েছে। সেই সময়ে জাতিসংঘের ৫৮ সদস্যের মধ্যে ৪৮ জন পক্ষে ভোট দেন প্রস্তাবের এবং বিপক্ষে কোন ভোট পড়েনি। পরবর্তীতে ১৯৫০ সাল থেকে প্রতি বছরের ১০ ডিসেম্বর যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
প্রকল্প পরিচালক মনিরুজ্জামান এর সঞ্চলনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন, ফিলাফ’র প্রকল্প পরিচালকবৃন্দ যথাক্রমে লায়ন শেখ জাহাঙ্গীর মিয়া, লায়ন সাইফুল ইসলাম সোহাগ, ইঞ্জিনিয়ার বিশ্বজিৎ গুহ, লায়ন মোঃ তাজুল ইসলাম।
এছাড়া মানবাধিকার কর্মী হিসেবে নিজেদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন লায়ন সৈয়দ মহিউদ্দীন ও লায়ন মোহাম্মদ আব্দুর রহীম।