মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা: ইরান-মার্কিন সম্পর্ক কোন পথে?

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এর মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার...

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এর মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং সামরিক উপস্থিতি এসব ইস্যুকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্ক বারবার সংঘাতের মুখে পড়েছে। তবে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এখনো শুরু হয়নি, যদিও বিভিন্ন সময় পরিস্থিতি বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে। ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে হওয়া ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন। এরপর ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর জবাবে ইরান ধাপে ধাপে চুক্তির কিছু শর্ত থেকে সরে আসে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়ায় বলে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলাইমানি নিহত হন। এই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। ইরান ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। যদিও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হয়, তবুও এই ঘটনাকে দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম বড় মোড় হিসেবে দেখা হয়। বর্তমানে উত্তেজনার বড় একটি কেন্দ্রবিন্দু হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দাবি করছে, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে না এগোয়। অন্যদিকে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ সংঘর্ষের অভিযোগ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি যুদ্ধ উভয় দেশের জন্যই ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বিশ্বে অন্যতম শক্তিশালী হলেও, ইরানও আঞ্চলিকভাবে প্রভাবশালী এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রক্সি নেটওয়ার্ক বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে সক্ষম। তাছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের তেলবাজার, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এর প্রভাব ব্যাপক হতে পারে। কূটনৈতিক মহল বলছে, যুদ্ধের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া না গেলেও উভয় পক্ষই সরাসরি সংঘাত এড়াতে কৌশলগত সংযম দেখাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে। সার্বিকভাবে বলা যায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বর্তমানে উত্তেজনাপূর্ণ ও অনিশ্চিত। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি সীমিত সংঘর্ষ ও কূটনৈতিক চাপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে পারমাণবিক আলোচনা, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর ভূমিকার ওপর।