বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স একটি প্রধান চালিকাশক্তি। রেমিট্যান্স কমে গেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি করবে। তাই এর সামান্য ওঠানামাও সামগ্রিক...
বাংলাদেশের
অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স একটি প্রধান চালিকাশক্তি। রেমিট্যান্স কমে গেলে দেশের বৈদেশিক
মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি করবে। তাই এর সামান্য ওঠানামাও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে
প্রভাবিত করতে পারে। গত মার্চে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে। মাসটিতে
পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, আগামী
মাসগুলোতে এই ধারা বিঘ্নিত হতে পারে।চলমান
ইরান যুদ্ধের ফলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব অর্থনীতি এক চরম সংকটে উপনীত হয়েছে। এ
যুদ্ধের কারণে সম্ভবত বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। এ সংকট
মোকাবিলা করা না গেলে, বাংলাদেশে এরই মধ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তা আগামীতে কয়েকগুণ
বেড়ে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট
সূত্র বলছে, বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসে উপসাগরীয় দেশ সৌদি
আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, কুয়েত ও বাহরাইন থেকে। একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের
ওপর শ্রমবাজারের অতি নির্ভরশীলতা অনেক সময় বিপদের কারণ। ওই অঞ্চলের অর্থনীতি, জ্বালানি
বাজার কিংবা ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির যে কোনো পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলে বাংলাদেশের
অর্থনীতিতে।অভিবাসন
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা বেশি থাকলে ঝুঁকি বাড়বে। এজন্য বিকল্প শ্রমবাজার
খুবই জরুরি। ইউরোপে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা খুবই সামান্য। শুধু ভাষা শিখিয়ে প্রচুর জনশক্তি
রপ্তানি করা সম্ভব জাপানসহ ইউরোপের দেশগুলোতে। আমাদের হাইকমিশনগুলোকে শ্রমবাজার খোলার
ক্ষেত্রে যথেষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন ভূমিকা রাখতে হবে। না হলে মধ্যপ্রাচ্যে নির্ভর হয়ে
বেশি বেশি সংকটের মুখোমুখি হতে হবে। ইরানের
সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের শুরু থেকে অস্থিতিশীল গোটা মধ্যপ্রাচ্য। কমেছে
কাজ। চাকরিচ্যুত হচ্ছেন অনেকে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। ঝুঁকিতে শ্রমবাজার। উপসাগরীয়
দেশগুলোর ওপর বেশি নির্ভরশীল হওয়ায় দেশের রেমিট্যান্সপ্রবাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
বর্তমান
প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের সার্বিক
নিরাপত্তা। শুধু জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তাই নয়, তাদের চাকরি ও মজুরির নিরাপত্তাও নিশ্চিত
করা জরুরি।