বিশ্বের সামরিক সমীকরণ বদলে দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ!
মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধের ডামাডোল বেজে উঠেছে, তা এখন আর শুধু রণক্ষেত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; একই সঙ্গে এই যুদ্ধ বর্তমান বিশ্বের সামরিক সমীকরণও বদলে দিচ্ছে। একটি...
মধ্যপ্রাচ্যে
যে যুদ্ধের ডামাডোল বেজে উঠেছে, তা এখন আর শুধু রণক্ষেত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; একই
সঙ্গে এই যুদ্ধ বর্তমান বিশ্বের সামরিক সমীকরণও বদলে দিচ্ছে। একটি সামরিক সংঘাত দ্রুতই
একটি বিশাল ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। এর রেশ ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে।
শেষ পর্যন্ত এ যুদ্ধে কে জয়ী হবে, তা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো, এ সংকট আমাদের বর্তমান
বিশ্বব্যবস্থাকে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের মুখে নিয়ে যাচ্ছে, যা ইঙ্গিত দেয় একটি অনিশ্চিত
ও বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার।যুদ্ধের
প্রভাব ইতিমধ্যে বৈশ্বিক বাজারে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। পারস্য উপসাগরের অস্থিতিশীলতার
কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির নতুন এক জোয়ার আসতে পারে। কৃষিবাজারেও এই চাপের আঁচ পাওয়া
যাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে চলমান এই সংকটের ফলে সারের বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে
ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং দামও বেড়ে যেতে পারে। এ থেকে বোঝা যায় যে এই যুদ্ধ কেবল ক্ষেপণাস্ত্র
ও বিমান হামলার লড়াই নয়; এটি এমন এক অর্থনৈতিক সংঘাত, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক
খাদ্যমূল্য, জ্বালানির বাজার ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর। হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী
এক দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দিচ্ছে। দশকের পর দশক ধরে অনেক আরব দেশ এই
বিশ্বাসের ওপর তাদের নিরাপত্তার কৌশল গড়ে তুলেছিল যে সংকটকালে আমেরিকাই হবে তাদের চূড়ান্ত
ভরসা। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এ ধারণার মূলে আঘাত করছে। জানা গেছে, বেশ কিছু আরব
দেশ পর্দার আড়ালে ওয়াশিংটনকে অনুরোধ করেছে, যাতে তাদের রক্ষণাত্মক ব্যবস্থাগুলো কেবল
ইসরায়েল নয়, বরং ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকেও
সুরক্ষা দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়। ইরান এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে।
যুদ্ধের সমাপ্তি কোন পথে হবে, তার কোনো নির্দিষ্ট নকশাও এখনো মেলেনি। তাই এ যুদ্ধ কেবল
সামরিক সক্ষমতার পরীক্ষা নয়, বরং তা মৈত্রী সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহনশীলতা এবং দশকের
পর দশক টিকে থাকা নিরাপত্তাকাঠামোর প্রতিও বড় চ্যালেঞ্জ। মধ্যপ্রাচ্যের
শক্তিকাঠামোয় এই যুদ্ধের ফলাফল শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াবে? ইরানের ড্রোন এবং স্বল্পমূল্যের
ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থার মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের অত্যন্ত ব্যয়বহুল
প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করতে হচ্ছে। একটি সস্তা ড্রোন ধ্বংস করতে যখন বহুগুণ বেশি
দামের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যয় হয়, তখন যুদ্ধের আর্থিক সমীকরণ বদলে যায়। এটি মার্কিন অর্থনীতির
জন্য বিশাল কোনো বিপর্যয় না হলেও আধুনিক যুদ্ধের একটি বাস্তব রূপ ফুটিয়ে তোলে। আর তা
হলো দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেকোনো শক্তিশালী দেশের জন্য অর্থনৈতিকভাবে
অত্যন্ত চাপের একটি বিষয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কেবল সামরিক সক্ষমতার পরীক্ষা নয়, বরং
তা মৈত্রী সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহনশীলতা এবং দশকের পর দশক টিকে থাকা নিরাপত্তাকাঠামোর
প্রতিও বড় চ্যালেঞ্জ।ওয়াশিংটন
দীর্ঘকাল ধরে সামরিক ক্ষমতা ও মৈত্রীর মাধ্যমে তাদের প্রভাব ধরে রেখেছে। দীর্ঘ মেয়াদে
এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও কমিয়ে দিতে পারে। আঞ্চলিক
দেশগুলো হয়তো তাদের নিরাপত্তার জন্য একক কোনো শক্তির ওপর নির্ভর না করে একাধিক শক্তির
সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে চলবে। এটি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার পতন না হলেও একটি
বহুমেরুর বিশ্ব গড়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে। মিডল
ইস্ট মনিটর থেকে
নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত