বিশ্বকাপের মঞ্চে ফুটবলের বাইরে মানবতার ডাক, ফিলিস্তিন নিয়ে হোসাম হাসানের বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন
প্রতিবেদন: শাহাজাদাবিশ্বকাপ মানেই গোল, জয়-পরাজয় আর ট্রফির লড়াই। কিন্তু ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর উত্তেজনার মাঝেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ভিন্ন...
প্রতিবেদন: শাহাজাদাবিশ্বকাপ মানেই গোল, জয়-পরাজয় আর ট্রফির লড়াই।
কিন্তু ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর উত্তেজনার মাঝেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে
এসেছে ভিন্ন এক বিষয়। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে
মানবতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মিসরের প্রধান
কোচ হোসাম হাসান।ফুটবল কৌশল বা প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা নয়,
তিনি কথা বলেছেন যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার নিয়ে। ফিলিস্তিনের চলমান
মানবিক সংকট তুলে ধরে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, পৃথিবীর যে মানুষ ফিলিস্তিনের মানুষের
কষ্ট অনুভব করেন না, তিনি প্রকৃত অর্থে মানবতার মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন। জাতি, ধর্ম
কিংবা ভৌগোলিক পরিচয় নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত।"তার বক্তব্যে উঠে আসে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরবতা
নিয়েও তীব্র হতাশা। তিনি বলেন, একটি প্রাণীর ক্ষতিতেও বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে,
অথচ প্রতিদিন নিরীহ নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের মৃত্যু অনেক ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া পায় না। এই বৈপরীত্য মানবিক মূল্যবোধকে প্রশ্নের মুখে দাঁড়
করিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান ফুটবল অঙ্গনের সকলের
প্রতিও বিশেষ আহ্বান জানান। তার ভাষায়, "ফুটবল কেবল ৯০ মিনিটের খেলা নয়। এটি
কোটি মানুষের হৃদয়ে পৌঁছানোর একটি শক্তিশালী মাধ্যম। বিশ্বকাপের এই মঞ্চ থেকে আমরা
যদি মানবতার কথা না বলি, তাহলে এই প্রভাবের মূল্য কোথায়?"তিনি আরও বলেন, "ফিলিস্তিনের মানুষ অতিরিক্ত
কিছু চাইছে না। তারা শুধু নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার, নিজেদের সন্তানদের নিয়ে শান্তিতে
জীবন কাটানোর সুযোগ চায়। এই মানবিক দাবির সঙ্গে বিশ্বের প্রতিটি বিবেকবান মানুষের
একাত্ম হওয়া উচিত।"এটি অবশ্য হোসাম হাসানের প্রথম প্রকাশ্য অবস্থান
নয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিসরের ঐতিহাসিক জয়ের পর মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে
তার উদযাপনের দৃশ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল। সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায়
এবার সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য তাকে আবারও বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নকআউট পর্বের
আগে এমন বক্তব্য ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও নতুন বিতর্ক ও আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকের মতে,
খেলাধুলা মানুষের মধ্যে ঐক্য, সহমর্মিতা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার অন্যতম শক্তিশালী
মাধ্যম। সেই শক্তিকেই মানবতার পক্ষে ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন মিসরের এই কিংবদন্তি
কোচ।