ব্রাজিল-জাপান মহারণ আজ, ফুটবলের গুরু-শিষ্যের নকআউট লড়াই
বিশ্ব ফুটবলের দুই ভিন্ন ধারার দুই শক্তি। একদিকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, অন্যদিকে এশিয়ার দ্রুত উত্থান ঘটানো জাপান। শেষ ষোলোর মহারণে আজ (সোমবার) হিউস্ট...
বিশ্ব ফুটবলের দুই ভিন্ন ধারার দুই শক্তি। একদিকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, অন্যদিকে এশিয়ার দ্রুত উত্থান ঘটানো জাপান। শেষ ষোলোর মহারণে আজ (সোমবার) হিউস্টনে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই নকআউট ম্যাচ।ম্যাচটি শুধু শেষ আটে ওঠার লড়াই নয়, এটি যেন গুরু ও শিষ্যেরও এক অনন্য দ্বৈরথ। কারণ আধুনিক জাপানি ফুটবলের ভিত্তি নির্মাণে সবচেয়ে বড় অবদান যে দেশের, সেই ব্রাজিলের বিপক্ষেই আজ নিজেদের সামর্থ্যের পরীক্ষা দেবে সামুরাই ব্লুরা।ম্যাচ ঘিরে ফুটবল উন্মাদনায় থমকে গেছে ব্রাজিলের কর্মজীবনও। দেশটির বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস এবং বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত বিকেল পর্যন্ত অফিস চললেও আজ সকাল ৯টায় কাজ শুরু হয়ে দুপুর ১২টায় শেষ হবে, যাতে সবাই জাতীয় দলের খেলা উপভোগ করতে পারেন। ব্রাজিলের সময় দুপুর ২টায় ম্যাচটি শুরু হওয়ায় গোটা দেশ যেন আগেভাগেই ফুটবল উৎসবে মেতে উঠেছে।আজকের এই লড়াইয়ের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ তিন দশকের এক ঐতিহাসিক সম্পর্ক। ১৯৯৩ সালে জাপানে পেশাদার ফুটবলের সূচনা হয় জে-লিগের মাধ্যমে। সেই সময় থেকেই একের পর এক ব্রাজিলিয়ান তারকা জাপানে পাড়ি জমান এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে দেশটির ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।বিসমার্ক, এলিভেলতো, লিওনার্দো, দুঙ্গাসহ অসংখ্য ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার জে-লিগে খেলেছেন। শুধু খেলোয়াড়ই নন, কোচ হিসেবেও ব্রাজিলিয়ানদের অবদান ছিল অসামান্য। তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম কিংবদন্তি জিকো। 'সাদা পেলে' নামে পরিচিত এই ফুটবল মহাতারকা অবসর ভেঙে কাশিমা অ্যান্টলার্সে যোগ দেন। তার হাত ধরেই জাপানে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের আগমন আরও বেড়ে যায়।বিশেষ করে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের সাতজন সদস্য বিভিন্ন সময়ে জে-লিগে খেলেছেন। তাদের অভিজ্ঞতা, পেশাদার মানসিকতা ও ফুটবল দর্শন জাপানের ফুটবল সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলটির উন্নয়নে বড় ভূমিকা রেখেছে।তাই আজকের ম্যাচটি শুধুই দুই দেশের নয়, বরং একই ফুটবল দর্শনের দুই প্রজন্মের মুখোমুখি হওয়া। কাগজে-কলমে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও শৃঙ্খলাবদ্ধ, দ্রুতগতির ও কৌশলী জাপান যে কোনো সময় চমক দেখাতে সক্ষম।শেষ পর্যন্ত কে হাসবে, গুরু ব্রাজিল নাকি শিষ্য জাপান? সেই উত্তর মিলবে হিউস্টনের সবুজ ঘাসে ৯০ মিনিটের লড়াই শেষে।