দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব, বর্ষবরণের আয়োজনে প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা
দেশে অল্প সময়ে এত বেশি মানুষের হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যেই ১৪ এপ্রিল ২০২৬ মঙ্গলবার উদযাপিত হবে...
দেশে
অল্প সময়ে এত বেশি মানুষের হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে মনে
করছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যেই ১৪ এপ্রিল ২০২৬ মঙ্গলবার উদযাপিত হবে বাংলা
বর্ষবরণের উৎসব। এই উৎসবের বিভিন্ন আয়োজন ও ব্যাপক জনসমাগম হামের সংক্রমণ ঝুঁকি আরও
বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা সতর্ক করে বলছেন, দেশজুড়ে বর্তমানে
হামের যে উচ্চ প্রাদুর্ভাব চলছে, পহেলা বৈশাখের মতো বড় উৎসবে ব্যাপক জনসমাগম সেই ঝুঁকি
বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে বায়ুবাহিত রোগ। তাই উৎসবের আনন্দ
যেন কোনো পরিবারের জন্য বিষাদে পরিণত না হয়, সেজন্য ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতার কোনো
বিকল্প নেই।পহেলা
বৈশাখে হামের সংক্রমণ ঝুঁকি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী
বলেন, যেখানে বেশি লোকসমাগম হয়, সেখানে কোনো শিশু বা ব্যক্তি হামে আক্রান্ত অবস্থায়
গেলে অন্যদের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি থাকে। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি ১৬ থেকে
১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে।রোগতত্ত্ব,
রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক
কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, অসুস্থ বা হামে আক্রান্ত শিশুদের কোনোভাবেই বাইরে
মেলা বা জনসমাগমে নেওয়া উচিত নয়। বৈশাখের অনুষ্ঠানে প্রচুর ভিড় হয়, যেখানে সংক্রমণের
ঝুঁকি বেশি। শিশুরা একা বের হয় না, তাদের সঙ্গে মা বা পরিবারের সদস্য থাকে, তাদেরও
ভিড় এড়িয়ে চলা উচিত এবং সম্ভব হলে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। ছোট শিশুরা সবসময় মাস্ক
পরে থাকতে পারে না, তাই তাদের ভিড় থেকে দূরে রাখাই সবচেয়ে ভালো।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন
অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, বাসায় কোনো শিশুর জ্বর বা শরীরে
লালচে দাগ থাকলে সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। এমন শিশুদের কোনোভাবেই মেলা বা ভিড়ের
মধ্যে নেওয়া যাবে না। তাদের আলাদা রাখতে হবে, যাতে অন্য শিশুদের সংস্পর্শে না আসে।বর্তমান
সময়ের এই প্রেক্ষাপটে সচেতনতা বাড়ানো এবং সতর্কতা অবলম্বনের তাগিদ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।