এক অনন্য বৃহস্পতিবারে বাংলাদেশ
২০২৬ সালের ১১ জুন, বৃহস্পতিবার দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য ও বৈচিত্র্যময় দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। একদিকে দেশের ভেতরে চলছে আগামী এক বছরের অর্থনৈতিক গত...
২০২৬ সালের ১১ জুন, বৃহস্পতিবার দিনটি
বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য ও বৈচিত্র্যময় দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। একদিকে দেশের
ভেতরে চলছে আগামী এক বছরের অর্থনৈতিক গতিপথ নির্ধারণের মহা-আয়োজন, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে
শুরু হচ্ছে ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় উৎসব। জাতীয় সংসদের অন্দরে যখন দেশের কোটি কোটি
টাকার হিসাব-নিকাশ কষা হচ্ছে, ঠিক তখনই দেশের রাজপথ থেকে ড্রয়িংরুম—সবখানে ফুটবল
উন্মাদনাও সমানতালে দোলা দিচ্ছে।আজ ঠিক বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মেঘ এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সংস্কারের পটভূমিতে প্রণীত
এবারের বাজেটটি দেশের জন্য অত্যন্ত সংকটময় ও গুরুত্বপূর্ণ। এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য
হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে—অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, মূল্যস্ফীতি
নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবৃদ্ধির গতিকে আরও ত্বরান্বিত করা।প্রতিবারের মতোই বাজেট পেশের এই ঐতিহাসিক
মুহূর্তটি ঘিরে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী মহলে আগ্রহের কমতি নেই। অর্থমন্ত্রী আজ কি
রঙের পোশাক পরে সংসদে আসবেন, কিংবা তার ঐতিহ্যবাহী ব্রিফকেসের ভেতরে কি ধরনের চমক বা
অর্থনৈতিক রূপরেখা থাকছে—তা নিয়ে সকাল থেকেই চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
ব্যবসায়ী সম্প্রদায় তাকিয়ে আছেন কর রেয়াত ও বিনিয়োগবান্ধব নীতির দিকে, আর মধ্যবিত্ত
ও সাধারণ মানুষ চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমার কোনো সুখবর
মেলে কি না, তা দেখতে।বাজেটের এই গুরুগম্ভীর হিসাব-নিকাশের সমান্তরালেই
আজ বাংলাদেশিদের মনে দোলা দিচ্ছে অন্য এক আদিম ও অকৃত্রিম রোমাঞ্চ। শত শত মাইল দূরে
উত্তর আমেরিকার মাটিতে আজ থেকেই পর্দা উঠছে ফিফা আয়োজিত ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের।বাঙালি ও ফুটবল—এই দুটি শব্দ
যেন একে অপরের পরিপূরক। বিশ্বকাপ শুরুর এই মাহেন্দ্রক্ষণে দেশজুড়ে শুরু হয়ে গেছে ফুটবল
উন্মাদনা। পাড়ায় পাড়ায়, বাড়ির ছাদে উড়ছে প্রিয় দলের পতাকা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম—সবখানে এখন বাজেট আলোচনার পাশাপাশি আর্জেন্টিনা,
ব্রাজিল বা অন্য প্রিয় দলগুলোর শক্তিমত্তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিকেল ৩টায়
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার খেরোখাতা খোলার পর, রাতের প্রহরেই মানুষ মেতে উঠবে বিশ্ব
ফুটবলের মাঠের লড়াই দেখতে।আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য
এক অদ্ভুত মেলবন্ধন তৈরি করেছে। একদিকে রয়েছে ভবিষ্যতের পকেট বাঁচানোর ‘বাজেট ক্রেজ’
বা
বাস্তব জীবনের কঠিন হিসাব-নিকাশ, অন্যদিকে রয়েছে হৃদয়ের সবটুকু আবেগ ঢেলে দেওয়া ‘ফুটবল উন্মাদনা’। টেবিলের একপাশে
রাখা টেলিভিশন স্ক্রিনে যখন অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা চলবে, তখন হয়তো অন্যপাশের স্ক্রিনে
বা স্মার্টফোনে উঁকি দেবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের খবরাখবর।
বাস্তবতার কঠিন বাজেট এবং স্বপ্নের ফুটবল
বিশ্বকাপ—এই দুইয়ের দোলাচলে
এক অদ্ভুত ও আনন্দঘন আবহে আজ মেতে আছে পুরো বাংলাদেশ।