ফুটবল প্রেম নাকি সামাজিক অবক্ষয়?
ফুটবল মানেই এক জাদুকরী মাদকতা। কিন্তু ইদানীং এই চিরচেনা রূপের আড়ালে এক গা শিউরে ওঠা অন্ধকার দানা বাঁধছে। যে খেলা মানুষকে মেলাবার কথা, তা কেন্দ্র করে ঝরছে রক্ত,...
ফুটবল মানেই এক জাদুকরী মাদকতা। কিন্তু
ইদানীং এই চিরচেনা রূপের আড়ালে এক গা শিউরে ওঠা অন্ধকার দানা বাঁধছে। যে খেলা মানুষকে
মেলাবার কথা, তা কেন্দ্র করে ঝরছে রক্ত, ঘটছে খুনোখুনি। লাতিন আমেরিকা থেকে ইউরোপ,
কিংবা আমাদের দেশের চায়ের দোকান—ফুটবল উন্মাদনা কেন বারবার এমন নৃশংসতায়
রূপ নিচ্ছে?সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এই সহিংসতার মূলে
রয়েছে 'যূথবদ্ধ উগ্রতা’। মনস্তত্ত্বের ভাষায় একে বলা হয় ‘ডি-ইনডিভিউডুয়েশন’ বা ব্যক্তিত্বের
বিলোপ। একজন মানুষ একাকী যে অপরাধ করতে ভয় পায়, উগ্র গোষ্ঠীর অংশ হয়ে সে তা অনায়াসে
করে ফেলে। গ্যালারিতে বা রাজপথে যখন হাজারো সমর্থক একসাথে জড়ো হয়, তখন ব্যক্তি তার
নিজস্ব বিবেক হারিয়ে দলের উগ্রতাকে আপন করে নেয়। প্রতিপক্ষ তখন আর খেলার প্রতিদ্বন্দ্বী
থাকে না, হয়ে ওঠে চিরশত্রু।এর সাথে যোগ হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের
নোংরা সাইবার যুদ্ধ ও কোটি টাকার জুয়া। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল বা রিয়াল-বার্সা ম্যাচকে
কেন্দ্র করে আমাদের দেশেও যেভাবে তরুণরা একে অপরের ওপর ছুরি চালায়, তা কোন সুস্থ ক্রীড়াপ্রেম
নয়। এটি আসলে সামাজিক অবক্ষয়, যেখানে মানুষ নিজের ব্যক্তিগত হতাশা ও ক্ষোভকে ফুটবলের
জার্সিতে ঢেকে রাস্তায় উগড়ে দেয়।
ফুটবলকে এই কলঙ্ক থেকে মুক্ত করতে হলে
পরিবার ও সমাজ থেকে তরুণদের শেখাতে হবে—খেলায় হার-জিত
থাকবেই, কিন্তু মানুষের জীবনের চেয়ে দামি কোনো ট্রফি হতে পারে না। ফুটবল হোক শুধুই
উৎসবের, রক্তপাতের নয়।