হার নয়, আত্মবিশ্বাসের জয়: চীনের বিপক্ষে ইতিহাসগড়া লড়াই বাংলাদেশের মেয়েদের

স্কোরবোর্ড বলছে ২-০। পরিসংখ্যান বলছে বল দখলে ৫৯-৪১ ব্যবধান, পাসে ৩৭৫-২৫৭ এগিয়ে প্রতিপক্ষ। কিন্তু মাঠের গল্প ছিল অন্যরকম। বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দল তাদের এএফ...

স্কোরবোর্ড বলছে ২-০। পরিসংখ্যান বলছে বল দখলে ৫৯-৪১ ব্যবধান, পাসে ৩৭৫-২৫৭ এগিয়ে প্রতিপক্ষ। কিন্তু মাঠের গল্প ছিল অন্যরকম। বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দল তাদের এএফসি নারী এশিয়ান কাপের অভিষেক ম্যাচেই বুঝিয়ে দিল তারা কেবল অংশ নিতে আসেনি, লড়তে এসেছে। প্রতিপক্ষ ছিল আটবার বিশ্বকাপ খেলা, বর্তমান এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন চীন নারী জাতীয় ফুটবল দল। অভিজ্ঞতা, শক্তি ও গতি সবদিক থেকেই এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের তরুণীরা যে সাহস দেখিয়েছে, সেটাই ম্যাচের সবচেয়ে বড় অর্জন। ৮৮ মিনিটে বড় পর্দায় ভেসে ওঠা পরিসংখ্যান বাংলাদেশের পেছনে থাকার কথাই জানাচ্ছিল। কিন্তু গ্যালারি ও টেলিভিশন দর্শক দেখেছেন অন্য ছবি দৃঢ় রক্ষণ, দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক আর শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাওয়ার মানসিকতা। বড় ব্যবধানে হারার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ২-০ গোলের পরাজয়কে তারা সম্মানজনক করে তুলেছে নিজেদের পারফরম্যান্সে। মাত্র ১৯-২০ বছর বয়সী কয়েকজন ফুটবলারকে নিয়ে গড়া এই দলটির আত্মবিশ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। মারিয়া ও মনিকার গতিময়তা আক্রমণে প্রাণ জুগিয়েছে, আর গোলপোস্টের নিচে মিলির দৃঢ়তা একাধিক নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে চীনা শিবিরে হতাশা ছড়িয়েছে। মিলির সেভে বিস্মিত হয়েছেন প্রতিপক্ষ কোচও। ম্যাচ শেষে প্রধান কোচ পিটার বাটলার বলেন, ফলাফল নয় এই ম্যাচে দলের মানসিক দৃঢ়তাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তাঁর মতে, অভিষেক ম্যাচে এমন পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য শক্ত ভিত গড়ে দিল।  হার হয়তো রেকর্ডে থাকবে, কিন্তু আত্মবিশ্বাস, সাহস আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার যে বার্তা বাংলাদেশের মেয়েরা দিল, সেটিই তাদের প্রকৃত জয়। এশিয়ার বড় মঞ্চে মাথা উঁচু করে হাঁটার শুরুটা এমনই হওয়া দরকার ছিল।