হিংসতা নির্মূলে কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরী!
সম্প্রতি নরসিংদীতে ধর্ষণের পর কিশোরীকে হত্যা, পাবনায় দাদি ও নাতনিকে হত্যা এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ধর্ষণের পর শিশু হত্যার ঘটনা নাগরিকদের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগের জ...
সম্প্রতি নরসিংদীতে ধর্ষণের
পর কিশোরীকে হত্যা, পাবনায় দাদি ও নাতনিকে হত্যা এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ধর্ষণের
পর শিশু হত্যার ঘটনা নাগরিকদের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। দেশে ধর্ষণ, হত্যাসহ
নারী–শিশু নির্যাতন এবং নৃশংস সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার যে ভয়াবহ চিত্র দেখা যাচ্ছে,
তা আসলেই উদ্বেগজনক। ঘরে, বাইরে ও ডিজিটাল পরিসরে নারী–শিশু
কোথায় নিরাপদ, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। আবার ভুক্তভোগী নারী ও শিশুদের বিচারিক
প্রতিকার পাওয়া কতটা দুরূহ, তা বলাই বাহুল্য। মামলা দিতে গিয়ে অর্ধেকের বেশি নারী ও
শিশু হেনস্তার শিকার হন। আর প্রায় ৯৭ শতাংশ মামলায় অপরাধীদের সাজা হয় না। সংস্কৃতির বিচারহীনতারসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির
অবনতি হলে অপরাধীদের মধ্যে এ ধারণা গেড়ে বসে যে অপরাধ করেও পার পাওয়া যায়। এ বাস্তবতায়
নারী ও শিশুরা অপরাধীদের সবচেয়ে সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে। আমরা মনে করি, সাম্প্রতিক
নৃশংস হত্যাকাণ্ডগুলো তারই প্রতিফলন। বাংলাদেশের যে উন্নয়ন ও অগ্রগতি, তার পেছনে নারীদের
বড় অবদান থাকলেও সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ সেটাকে থমকে দিতে পারে৷ প্রকৃতপক্ষে
নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা কেবল তখনই দূর হবে, যখন রাষ্ট্র ও সরকার দৃঢ়ভাবে তাদের
পাশে দাঁড়াবে এবং কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করবে।
বর্তমান সরকারকে অবশ্যই
নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সহিংসতা নির্মূলে কার্যকর ও জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।