ইউরোপ সম্পৃক্ত নয় ইরানবিরোধী যুদ্ধে!

ইউরোপের জন্য শুধু ভূরাজনৈতিক নয়; অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। ইতোমধ্যেই ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে জ্বালানি বাজার থেকে...

ইউরোপের জন্য শুধু ভূরাজনৈতিক নয়; অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। ইতোমধ্যেই ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে জ্বালানি বাজার থেকে শুরু করে অভিবাসনপথ, ন্যাটো জোট থেকে জনতুষ্টিবাদী রাজনীতির উত্থান পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে এর ঢেউ। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সাধারণত আঞ্চলিক সীমার ভেতরে আটকে থাকে না। এবারও তার ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা কম৷ যুদ্ধটি নিয়ে ইউরোপ নিজেই গভীরভাবে বিভক্ত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সতর্ক ভাষায় ‘সর্বোচ্চ সংযম’ দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। এ ভাষা আসলে ২৭টি সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলার কঠিন বাস্তবতাকে প্রকাশ করে। কারণ তাদের অবস্থান এক রকম নয় এ সংঘাত নিয়ে। এই যুদ্ধে হয়তো সরাসরি লড়ছে না ইউরোপ। কিন্তু যুদ্ধের পরিণতি থেকে তার মুক্তি নেই। আগামী কয়েক সপ্তাহই বলে দেবে ইউরোপ এই সংকটের মুখে ঐক্য ধরে রাখতে পারবে, নাকি আবারও ইউরোপের ভেতরের বিভাজনকে গভীর করে তুলবে মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি সংঘাত। এ পরিস্থিতিতে একটি রাজনৈতিক বৈপরীত্যও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ইউরোপীয় সরকারগুলোকে বিদেশে সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন বা সহনীয় করে তুলতে পারে, সেই অস্থিরতাই পরে দেশের ভেতরের রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করে তোলে। সিরিয়া যুদ্ধের পর ইউরোপ এই বাস্তবতা দেখেছে। ইরান যুদ্ধ সেই অভিজ্ঞতাকে আবার সামনে আনতে পারে। সব মিলিয়ে ইউরোপ এক পরিচিত পরিস্থিতির মুখোমুখি। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ভৌগোলিকভাবে দূরে থেকেও অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে তার অভিঘাত থেকে দূরে থাকা সম্ভব নয়। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, তার প্রভাব তত তীব্র হবে। জ্বালানির দাম বাড়তে পারে। অভিবাসনের চাপ বাড়তে পারে। জনতুষ্টিবাদী রাজনীতি আরও শক্তিশালী হতে পারে। মতপার্থক্যও বাড়তে পারে আটলান্টিক জোটের ভেতরে।