ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের শ্রমবাজার!
সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট আবারও দেখিয়ে দিল, বাংলাদেশের শ্রমবাজার কতটা একমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট অনিয়মিত হয়ে পড়া, কর্মী...
সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট আবারও দেখিয়ে দিল, বাংলাদেশের শ্রমবাজার কতটা একমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট অনিয়মিত হয়ে পড়া, কর্মীদের যাতায়াতে বাধা, কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা সব মিলিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের একটি বড় অংশ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। বাংলাদেশের শ্রমবাজারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অতিরিক্ত মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট তাই বাংলাদেশের জন্য একধরনের সতর্কবার্তা।যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কয়েক শ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ফলে অনেক কর্মী বিদেশে যেতে পারছেন না, আবার ছুটিতে দেশে এসে অনেকেই আটকা পড়েছেন। বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, চলতি মার্চের প্রথম ১০ দিনে বিদেশে যেতে ছাড়পত্র নেওয়া কর্মীর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। এটি কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়; বরং বৈদেশিক শ্রমবাজারের ভঙ্গুর বাস্তবতার ইঙ্গিত বহন করে। মধ্যপ্রাচ্যে ৪৫ থেকে ৫০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তাঁদের কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা এবং আয় সবই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে। বাংলাদেশ এখনো পর্যাপ্ত দক্ষ কর্মী তৈরি করতে পারেনি। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইউরোপ, জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো সম্ভাবনাময় বাজারে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা থাকলেও সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। কারণ, এসব দেশে কাজের জন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও ভাষাজ্ঞান। নতুন শ্রমবাজার তৈরির কথা বলছে বাংলাদেশ সরকার এবং ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তিও হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তব ফল দিতে হলে দক্ষ কর্মী তৈরিতে বড় পরিসরে বিনিয়োগ করতে হবে। কারিগরি শিক্ষা, ভাষা প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর না দিলে বিকল্প শ্রমবাজার তৈরি করা সম্ভব হবে না। বৈদেশিক কর্মসংস্থানকে টেকসই করতে হলে একক অঞ্চলনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে বহুমুখী শ্রমবাজার গড়ে তোলা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা ছাড়া আর কোনো বাস্তবসম্মত পথ নেই। দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি বৈদেশিক কর্মসংস্থান। প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স শুধু বৈদেশিক মুদ্রার জোগানই বাড়ায় না, বড় ভূমিকা রাখে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও।