জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বৈশ্বিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ !

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি করেছে। সামরিক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।...

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি করেছে। সামরিক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত শান্তও হতে পারে। তবে এই ধরনের ভূরাজনৈতিক সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে অনিশ্চয়তার মাধ্যমে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বাড়লে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। বিশেষ করে তেলনির্ভর অর্থনীতিগুলো বেশি ঝুঁকিতে পড়ে। ফলে অনেক দেশ আগেভাগেই জ্বালানি মজুত বাড়ানো, বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় নীতি প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করছে। কারণ অনিশ্চয়তার সময়ে যারা আগে প্রস্তুতি নেয়, তারাই তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে অনেকেই ১৯৭০ এর দশকের তেল সংকটের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করতে চান না। সেই সময় মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর উৎপাদন সীমিত করার সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ঘাটতি সৃষ্টি করেছিল। এর ফলে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায় এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্রুত মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পায়। বর্তমান প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন। এখন বিশ্ব জ্বালানি বাজার আগের তুলনায় অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে তেল উৎপাদন বৃদ্ধি, বিকল্প জ্বালানি উৎসের ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ফলে একটি অঞ্চলের সংকট পুরো বাজারকে আগের মতো সহজে অচল করে দিতে পারে না। তবু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সম্ভাবনা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে এ আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক শক্তি এবং এই অঞ্চলের সমুদ্রপথ দিয়েই বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ পরিবাহিত হয়। কোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা সেই সরবরাহ ব্যবস্থাকে বিঘ্নিত করতে পারে।  বিশেষজ্ঞদের মতে, তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রস্তুতি। সংঘাত হয়তো দ্রুত শেষ হতে পারে, কিন্তু এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। আর সেই অনিশ্চয়তার মাঝেই বৈশ্বিক অর্থনীতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।