জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে উদ্যোগী সরকার

জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। গত বছরের তুলনায় সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতায় কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও...

জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। গত বছরের তুলনায় সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতায় কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গতকাল জাতীয় সংসদে জ্বালানির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একথা বলেন।মার্চে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা গেলেও মজুত প্রায় শেষের দিকে চলে এসেছে। তাই এপ্রিলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ধরে রাখতে হলে সূচি মেনে আমদানি নিশ্চিত করতে হবে। চাহিদার অতিরিক্ত অকটেন আসার নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জ্বালানি তেল ডিজেল নিয়েই দুশ্চিন্তা বেশি। বিকল্প উৎস থেকে ডিজেল আমদানির চেষ্টা করছে সরকার।দেশে দুই ধরনের জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি তেল আসছে না। পরিশোধিত জ্বালানি হিসেবে ডিজেল, অকটেন, ফার্নেস তেল ও জেট ফুয়েল কেনা হয় বিভিন্ন দেশ থেকে। আর অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আনা হয় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। এসব তেল দেশের একমাত্র সরকারি পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) শোধন করে ডিজেল, পেট্রল, ফার্নেস তেলসহ বিভিন্ন জ্বালানি পাওয়া যায়। ইআরএল থেকে মাসে গড়ে ৬০ হাজার টন ডিজেল পাওয়া যায়। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরব ও আরব আমিরাত থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি আসা বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য মজুত আছে ২৬ হাজার টন, যা দিয়ে ৬ থেকে ৭ দিন উৎপাদন করা যাবে।জ্বালানি বিভাগ বলছে, দেশে বছরে সরবরাহ করা জ্বালানি তেলের মধ্যে ৬৩ শতাংশ ডিজেল। আর পেট্রল ও অকটেন সরবরাহ করা হয় ৬ শতাংশ করে। অথচ এক মাস ধরে পেট্রল ও অকটেনের জন্য ফিলিং স্টেশনে লম্বা লাইন ধরছে মানুষ। যদিও পেট্রল ও অকটেনের ঘাটতির কোনো শঙ্কা নেই। গত অর্থবছর দেশে ৪ লাখ ১৫ হাজার টন অকটেন বিক্রি হয়। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ দেশেই উৎপাদিত হয়। আর বাকি ৫০ শতাংশ আমদানি করা হয়। আর পেট্রল শতভাগ দেশেই উৎপাদিত হয়েছে।চতুর্থ সপ্তাহ পার করছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। এতে বিশ্বে নজিরবিহীন জ্বালানিসংকট তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে আমদানি ব্যাহত হতে পারে। বিভিন্ন দেশ ডিজেল সরবরাহ করলেও, তাদের সরবরাহ ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে। অধিকাংশ দেশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করে পরিশোধনের পর রপ্তানি করে থাকে। তাই তাদের কাছ থেকে সময়মতো ডিজেল পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আর বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রস্তাব এলেও সরবরাহ নিশ্চিত নয়।জ্বালানি বিভাগ বলছে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার পাশাপাশি নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, অ্যাঙ্গোলা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপরিশোধিত বা পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।অর্থনীতির চালিকা শক্তি ডিজেল। তাই ডিজেল আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। একই সঙ্গে ঘাটতি ধরে প্রস্তুতি নিতে হবে। সাশ্রয়ে নানা উদ্যোগ নিতে হবে। এটা বৈশ্বিক সংকট, উন্নত দেশও ভুগছে। কাউকে দায়ী করার সুযোগ নেই।