জ্বালানি তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ওপেকের তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ...

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ওপেকের তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের প্রধান দুই মানদণ্ড—ব্রেন্ট ক্রুড এবং ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম শেষ লেনদেন অনুযায়ী বেশ খানিকটা বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়ে ৭২ ডলার ৫৮ সেন্টে পৌঁছেছে এবং মার্কিন ক্রুড বা ডব্লিউটিআই-এর দাম ব্যারেল প্রতি ১ দশমিক ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭০ ডলার ৪ সেন্টে বেচাকেনা হচ্ছে।বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথগুলোতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একই সাথে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংগঠন ওপেক প্লাস বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে উৎপাদন হ্রাসের যে নীতি বজায় রেখেছে, তা বাজারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ করে তেলের বাণিজ্যিক মজুদ কমে যাওয়া এবং প্রধান অর্থনীতিগুলোতে জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় তেলের বাজারে এই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ এশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা সরাসরি সাধারণ পণ্যের বাজারকে উত্তপ্ত করে তোলে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত না হলে আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতিকে ধীর করে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।