জ্বালানির সংকট রোধে হতে হবে সংযমী!

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকার কারণেই ভোক্তাদের মধ্যে একধরনের প্যানিক বায়িং বা আতঙ্...

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকার কারণেই ভোক্তাদের মধ্যে একধরনের প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কিত হয়ে জ্বালানি কেনার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও একধরনের শঙ্কা ও আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। বর্তমান সংকটটা বৈশ্বিক সংকট, এর ওপরে সরকারের কোনো হাত নেই। ভোক্তাদের এটা মনে রাখা জরুরি যে আতঙ্কিত হয়ে তাঁদের তেল কেনার প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত বিশৃঙ্খলা ছাড়া আর কোনো ফল নিয়ে আসতে পারবে না। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থেই জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে নাগরিকদের সাশ্রয়ী ও সংযমী হতে হবে৷ এক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা হতে হবে পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল।  সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের মাত্রা ও ব্যাপ্তি বুঝতে পেরে সরকার শুরুতেই জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নীতি গ্রহণ করেছে, সেটা যৌক্তিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। কিন্তু জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ নিয়ে জনমনে শঙ্কা তৈরি হওয়ায় গত কয়েক দিনে ডিজেল, অকটেন, পেট্রলের চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে এটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক চাহিদা নয়। আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে জ্বালানি তেল কেনা এবং অনেকে বেআইনিভাবে মজুত করার কারণেই এমন কৃত্রিম চাহিদা ও সংকট তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে, সেই বিবেচনায় সরকারের এই ‘সঞ্চয়ী’ নীতি কার্যকর বলেই আমরা মনে করি। তবে জ্বালানি তেল নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে শঙ্কা ও উদ্বেগের জন্ম হয়েছে, সেটা নিরসনের দায়িত্বও সরকারের। সে ক্ষেত্রে জ্বালানির মজুত ও সরবরাহের প্রকৃত চিত্র নিয়মিতভাবে নাগরিকদের জানানো ও আশ্বস্ত করাটা জরুরি৷ তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায়  বিশ্ববাজারে জ্বালানির বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব বাংলাদেশের ওপরেও এসে পড়লেও দেশে বর্তমানে জ্বালানির যে মজুত আছে এবং জাহাজে করে যে সরবরাহ আসছে, তাতে করে মার্চ মাসে জ্বালানির সংকট তৈরির কোনো শঙ্কা নেই।