কুয়াকাটা সৈকতে শুরু হলো পর্যটন কার্নিভাল
নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালীদীর্ঘ ৯ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পটুয়াখালীর সাগরকন্যা কুয়াকাটায় বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী মেগা পর্যটন...
নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালীদীর্ঘ ৯ বছরের প্রতীক্ষার
অবসান ঘটিয়ে পটুয়াখালীর সাগরকন্যা কুয়াকাটায় বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে
দুই দিনব্যাপী মেগা পর্যটন কার্নিভাল-২০২৬। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে পটুয়াখালী-৪
আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন ডিসি পার্ক
এলাকায় এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উপকূলের এই আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত
ও বর্ণিল করে তুলতে এবার সহযোগী সারথী হিসেবে যুক্ত হয়েছে দেশীয় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান
অতিথি গ্রুপ।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি
হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন জুই এবং বাংলাদেশ
পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামান। আরও উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের
প্রধান জোনায়েদ সাকি৷ উদ্বোধনের পরপরই সৈকতের
বুকে আটটি দলের অংশগ্রহণে শুরু হয় জাঁকজমকপূর্ণ বিচ ফুটবল প্রতিযোগিতা। কার্নিভালের
প্রথম দিনে পর্যটকদের বিনোদনের জন্য লেম্বুর বনে আয়োজন করা হয় শিশুদের আকর্ষণীয় চিত্রাঙ্কন
প্রতিযোগিতা ও রঙিন ঘুড়ি উৎসব। উৎসবের প্রথম সন্ধ্যাকে রাঙিয়ে তুলতে সমুদ্রের ঢেউয়ের
গর্জনের সাথে সুর মেলাতে মঞ্চে আসেন দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও ব্যান্ডের জনপ্রিয়
তারকা। উদ্বোধনী এ আয়োজনে সাধারণ ক্রীড়াপ্রেমী ও পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দিতে যোগ দিয়েছেন
জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল, হাবিবুল বাশার এবং জাতীয় ফুটবল
দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া।কুয়াকাটার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের
অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, লাল কাঁকড়ার চর, লেম্বুর বন এবং ঐতিহ্যবাহী রাখাইন সংস্কৃতিকে
বিশ্বমঞ্চে ব্র্যান্ডিং করার লক্ষ্যেই এই কার্নিভালের আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর
এমন বড় উৎসবের আয়োজন স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরণের গতি আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কার্নিভালের দ্বিতীয় দিন
অর্থাৎ শনিবারের জন্য রাখা হয়েছে আরও আকর্ষণীয় সব আয়োজন। এর মধ্যে অন্যতম হলো গঙ্গামতি
চরে বিচ ম্যারাথন, ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব এবং সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠা নয়নকাড়া 'চর বিজয়'
ভ্রমণের বিশেষ ব্যবস্থা। পর্যটকদের সুরক্ষায় সমুদ্রসৈকত ও আশেপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে
ট্যুরিস্ট পুলিশ, রিভার পুলিশ ও সাধারণ পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায়
৭০০ জন সদস্য সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন।