মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে মানসম্মত হেলমেট নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার একটি বড় অংশজুড়ে এখন মোটরসাইকেল। আর এসব দুর্ঘটনায় সবচেয়ে ভয়াবহ আঘাত লাগে মাথায়। তাই মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের জীবন রক্ষায় মানসম্মত হেলমে...

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার একটি বড় অংশজুড়ে এখন মোটরসাইকেল। আর এসব দুর্ঘটনায় সবচেয়ে ভয়াবহ আঘাত লাগে মাথায়। তাই মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের জীবন রক্ষায় মানসম্মত হেলমেট সহজলভ্য করা, বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং বাজারে নিম্নমানের হেলমেট বিক্রি বন্ধ করা এখন জরুরি হয়ে উঠেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ২০২৩ সালে নীতিনির্ধারকদের জন্য প্রকাশিত সড়ক নিরাপত্তা নির্দেশিকায় বলেছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো মাথায় আঘাত। সংস্থাটির মতে, ভালো মানের হেলমেট ব্যবহারে মৃত্যুঝুঁকি ছয় গুণেরও বেশি কমে এবং মস্তিষ্কে আঘাতের ঝুঁকি কমে সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত।বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সতর্কবার্তা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির ২০২৫ সালের দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বছরজুড়ে দেশে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে ২ হাজার ৪৯৩টি ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৭.০৪ শতাংশ। এসব দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৯৮৩ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।শুধু ২০২৫ সালই নয়, আগের বছরেও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ছিল উদ্বেগজনক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ সালেও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৩ হাজারের কাছাকাছি, যা এ খাতের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে বলে ইঙ্গিত দেয়। এই প্রবণতা থেকে স্পষ্ট, মোটরসাইকেল এখন শুধু ব্যক্তিগত যাতায়াতের বাহন নয়, বরং সড়ক নিরাপত্তার বড় চ্যালেঞ্জেও পরিণত হয়েছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে দুর্ঘটনার হারও বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বড় সমস্যা, বাজারে সহজে পাওয়া যাচ্ছে নিম্নমানের ও ভুয়া হেলমেট। দেড়শ থেকে পাঁচশ টাকার মধ্যেও হেলমেট বিক্রি হতে দেখা যায়, যেগুলোর অনেকগুলোই আসলে সুরক্ষা সামগ্রী নয়, বরং প্লাস্টিকের টুপি  মাত্র। এসব হেলমেট দুর্ঘটনার সময় কার্যকর সুরক্ষা দিতে পারে না।বাংলাদেশে হেলমেটের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর ওপর। নিয়ম অনুযায়ী, মান যাচাই ছাড়া কোনো হেলমেট বাজারজাত হওয়ার কথা নয়। এমনকি ২০২৩ সালে সরকারও স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, (বিএসটিআই) সনদ ছাড়া হেলমেট বাজারে বিক্রি করা যাবে না। কিন্তু বাস্তবে এখনো দেশের বিভিন্ন বাজারে এই সনদের মানচিহ্নবিহীন হেলমেট অবাধে বিক্রি হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে আনে। এই পরিস্থিতিতে শুধু সচেতনতামূলক প্রচারণা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হেলমেট পরীক্ষা, নিয়মিত বাজার তদারকি, নকল ও নিম্নমানের হেলমেটের বিরুদ্ধে অভিযান, এবং চালক-আরোহী উভয়ের জন্য হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে কঠোর আইন প্রয়োগ। শুধু চালকের মাথায় হেলমেট থাকলেই হবে না, পেছনের আরোহীকেও একইভাবে মানসম্মত হেলমেট পরতে হবে।