মূল্যস্ফীতি বাড়লে মানুষের ভোগান্তি বাড়বে : বিশ্বব্যাংক

মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে ঘিরে জ্বালানিবাজারের গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করছে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি। অর্থাৎ জ্বালানির দাম কতটা বাড়ে বা কমে, এর ওপর আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দা...

মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে ঘিরে জ্বালানিবাজারের গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করছে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি। অর্থাৎ জ্বালানির দাম কতটা বাড়ে বা কমে, এর ওপর আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ওঠানামা করবে। সরবরাহঘাটতির কারণে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ইতোমধ্যে বেড়েছে। ফলে ২০২৬ সালে গড় জ্বালানি মূল্য ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।জ্বালানির দাম বাড়লে বাজারে তার প্রভাব পড়ে। কারখানার খরচ বেড়ে যায়, বৃদ্ধি পায় পরিবহন ব্যয়, পণ্যের দামও বাড়তে শুরু করে। কৃষক থেকে ভোক্তা—সবাই চাপে পড়ে। মূল্যস্ফীতি বাড়লে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে। শেষ পর্যন্ত অর্থনীতির গতি কমে যায়—অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়ে নিত্যদিনের জীবনে।চলমান এ যুদ্ধের প্রভাব শুধু জ্বালানিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। যুদ্ধ ও পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এতে নানা পণ্য ও শিল্পের কাঁচামালের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সমুদ্রপথে রপ্তানি কার্যত থমকে যাওয়ায় এই চাপ তৈরি হয়েছে।যুদ্ধের কারণে চলতি বছর জিনিসপত্রের দাম গড়ে ১৬ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ২০২২ সালের পর এবারই পণ্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে পূর্বাভাস দিল এই বৈশ্বিক সংস্থা।কমোডিটি মার্কেট আউটলুক বা পণ্যবাজার–বিষয়ক পূর্বাভাস ২০২৬–এর এপ্রিল সংস্করণে বিশ্বব্যাংক বলেছে, জ্বালানির দামে ঊর্ধ্বগতির কারণে উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির (ইএমডিই) দেশগুলোর প্রবৃদ্ধিতে চাপ তৈরি হবে। এসব দেশের গড় মূল্যস্ফীতি চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে যেতে পারে। মূল্যস্ফীতি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২০২২ সালে বিশ্বের সব দেশেই মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যায়। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু অন্যান্য দেশ সেই চক্র থেকে বেরিয়ে এলেও বাংলাদেশ এখনো পারেনি। বাংলাদেশে এমনিতেই তিন বছরের বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। এখন মূল্যস্ফীতি আরও বাড়লে মানুষের ভোগান্তি বাড়বে।