ম্যানেজার কর্মশালা থেকে অতিথি গ্রুপের নতুন রোডম্যাপ
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক কর্পোরেট বিশ্বে কর্মপরিচালনার আধুনিকায়ন ও সুদৃঢ় প্রাতিষ্ঠানিক অবয়ব বজায় রাখতে ২৩ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত তিনদিনব্যাপী এক ব্যতিক্রমী...
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক কর্পোরেট বিশ্বে কর্মপরিচালনার
আধুনিকায়ন ও সুদৃঢ় প্রাতিষ্ঠানিক অবয়ব বজায় রাখতে ২৩ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত তিনদিনব্যাপী
এক ব্যতিক্রমী ম্যানেজার কর্মশালার আয়োজন করেছিল দেশের অন্যতম অগ্রগামী ও সুপ্রতিষ্ঠিত
প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন প্রতিষ্ঠান অতিথি গ্রুপ। রাজধানীর বাসাবো এলাকার বৌদ্ধমন্দিরের
ধর্মরাজিক বৌদ্ধবিহার কমপ্লেক্স মিলনায়তনে আয়োজিত এই নিবিড় কর্মশালায় দেশের প্রথিতযশা
ও অভিজ্ঞ কর্পোরেট প্রশিক্ষকগণের সুনিপুণ পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের
প্রায় সহস্রাধিক ব্যবস্থাপক অংশগ্রহণ করেন। এই আয়োজনটি নিছক কোন প্রথাগত আনুষ্ঠানিকতা
ছিল না, বরং এটি ছিল অতিথি গ্রুপের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার এক সুনির্দিষ্ট, বৈপ্লবিক ও
যুগোপযোগী কৌশলগত রোডম্যাপ। তিনদিনব্যাপী এই উচ্চমার্গীয় কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের
প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য পূরণে কার্যকর কৌশল, আধুনিক কর্মক্ষেত্রের পরিচালনা পদ্ধতি, যৌথ
কর্মসমন্বয় এবং কর্পোরেট সংস্কৃতির বিভিন্ন গভীর দিক নিয়ে বাস্তবমুখী ও যুগোপযোগী
প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়, যা সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে প্রতিষ্ঠানটির একটি দূরদর্শী,
সুদূরপ্রসারী ও অত্যন্ত পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়ে ওঠে।কর্মশালার প্রথম দিনেই সামগ্রিক গুরুত্বের কেন্দ্রে
অবস্থান করে আধুনিক কর্পোরেট দুনিয়ার সবচেয়ে আলোচিত এবং স্পর্শকাতর বিষয়—টেকসই উন্নয়ন। বর্তমান বৈশ্বিক
বাজারে কেবল তাৎক্ষণিক বা সাময়িক মুনাফা অর্জনই যেকোন সফল প্রতিষ্ঠানের শেষ কথা হতে
পারে না, বরং পরিবেশগত ভারসাম্য ও সামাজিক উন্নয়নকে দক্ষতার সাথে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদী
ব্যবসা পরিচালনা করাই আসল কৌশল। প্রথম দিনের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় এটি অত্যন্ত জোরালোভাবে
প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, এই আন্তর্জাতিক লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ ব্যবস্থাপকের উপস্থিতি অপরিহার্য।
প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ ও সব ধরনের সুযোগের সর্বোচ্চ বৈজ্ঞানিক ব্যবহার নিশ্চিত করে ব্যবসাকে
স্থায়িত্ব দিতে পারেন কেবল একজন দূরদর্শী ব্যবস্থাপকই, যা অতিথি গ্রুপকে একটি পরিবেশবান্ধব
ও সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে এগিয়ে নিতে মূল চালিকাশক্তি
হিসেবে কাজ করবে।দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রমে মূল ফোকাস বা প্রধান
লক্ষ্য ছিল ব্যবস্থাপকদের ব্যক্তিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, অনন্য পেশাদারিত্বের
উন্নয়ন এবং সুদৃঢ় কর্পোরেট ব্যবস্থাপনার ওপর। দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিনির্ভর বৈশ্বিক
বাজারের সাথে তাল মেলাতে আধুনিক কর্পোরেট সংস্কৃতির বিকাশ এবং নিয়মিত মেধার আধুনিকায়নের
কোন বিকল্প নেই। কর্মশালার এই অংশে ব্যবস্থাপকদের আধুনিক কর্মপদ্ধতি, নিখুঁত সময়ানুবর্তিতা
এবং সর্বোচ্চ পেশাগত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও গাইডলাইন
দেওয়া হয়। এই সুশৃঙ্খল ও কাঠামোগত কর্পোরেট দর্শন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব
হলে অতিথি গ্রুপের অভ্যন্তরীণ কর্মপরিবেশ ও সেবার মান আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে এবং
গ্রাহক সন্তুষ্টির নতুন মাত্রা যোগ হবে।কর্মশালার সমাপনী দিনে বিশদভাবে উঠে আসে প্রাতিষ্ঠানিক
সমৃদ্ধি ও টেকসই অগ্রগতির মূল উৎস, যা হলো সম্মিলিত কর্মদক্ষতা ও সুপরিচালনা। কোন একক
ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন কর্মক্ষমতায় একটি বৃহৎ ও আধুনিক প্রতিষ্ঠান কখনোই তার কাঙ্ক্ষিত
গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না। প্রতিষ্ঠানের উচ্চ নীতিনির্ধারকদের সঠিক সুপরিচালনা, দিকনির্দেশনা
এবং প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌথ সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার সুসমন্বিত
রূপের মাধ্যমেই কেবল সুদূরপ্রসারী প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য অর্জন সম্ভব। সমাপনী দিনের
এই জাঁকজমকপূর্ণ বার্তাটি কর্মীদের মাঝে প্রাতিষ্ঠানিক একাত্মতা, গভীর পারস্পরিক আস্থা
এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি সর্বোচ্চ স্তরের পেশাদার দায়িত্ববোধ তৈরি করতে সমর্থ হয়েছে,
যা অতিথি গ্রুপের সমৃদ্ধির আসল চাবিকাঠি।অনুষ্ঠানের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি লায়ন
সাইফুল ইসলাম সোহেল তিনদিনের এই গৌরবময় আয়োজনের সামগ্রিক মূল্যায়নে তাঁর অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ মন্তব্য পেশ করেন। তিনি গভীর প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন,
"একটি আধুনিক প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত চালিকাশক্তি বা প্রাণশক্তি তার বাহ্যিক অবকাঠামো
নয়, বরং তার দক্ষ মানবসম্পদ ও মেধা। এই তিনদিনের নিবিড় কর্মশালাটি দৃঢ়ভাবে প্রমাণ
করেছে যে অতিথি গ্রুপ শুধু ব্যবসা সম্প্রসারণেই নয়, বরং উচ্চমানের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা
গঠনে এবং আন্তর্জাতিক মানের কর্পোরেট সুশাসন ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এখানে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচিত টেকসই উন্নয়ন, পেশাদারিত্ব এবং সম্মিলিত সুপরিচালনার
মূলমন্ত্রগুলো যদি ব্যবস্থাপকরা তাঁদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতার
সাথে বাস্তবায়ন করতে পারেন, তবে অতিথি গ্রুপ কর্পোরেট সেক্টরে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে
এবং দেশের প্রবৃদ্ধি ও অর্থনীতিতে আরও বৃহৎ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।"মর্যাদাপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিথি
সফটওয়্যার সলিউশন লিমিটেড এর পরিচালক লায়ন অফিয়া কনক, অতিথি লিমিটেড এর পরিচালক (প্রশাসন)
লায়ন ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম, অতিথি সিটি এন্ড রিসোর্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান লায়ন এস
এম শাহিন, পরিচালক লায়ন ইঞ্জিনিয়ার ওয়াহিদুর রহমান আজাদ, অতিথি প্রপার্টিজ লিমিটেড
এর চেয়ারম্যান লায়ন নজরুল ইসলাম চৌধুরী, অতিথি লিমিটেড এর পরিচালক লায়ন মোঃ নূর নবী
মৃধা, পরিচালক (অপারেশন) বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব:) এস এম ফেরদৌস, অতিথি এভিয়েশন এন্ড
ওভারসিস লিমিটেড এর পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব:) লায়ন আব্দুল হান্নান, অতিথি
মিডিয়া এন্ড পাবলিকেশন্স লিমিটেড এর পরিচালক লায়ন মো: ইসমাইল মিয়া, অতিথি গ্রুপের ব্র্যান্ড
অ্যাম্বাসেডর চিত্রনায়ক ডি এ তায়েব প্রমুখ এবং কোম্পানীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও
সংশ্লিষ্ট সকলে।সার্বিকভাবে মূল্যায়ন করলে দেখা যায়, এই তিনদিনব্যাপী
তাত্ত্বিক ও বাস্তবমুখী কর্মশালাটি অতিথি গ্রুপের মানবসম্পদকে আরও শক্তিশালী, দূরদর্শী
ও আন্তর্জাতিক মানের করে তুলেছে। তবে এই চমৎকার উদ্যোগের প্রকৃত সফলতা ও কার্যকারিতা
পুরোপুরি নির্ভর করবে কর্মশালায় অর্জিত জ্ঞান ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ব্যবস্থাপকরা
তাদের দৈনিক কর্মক্ষেত্রে কতটা নিখুঁতভাবে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রয়োগ করছেন তার ওপর।
নিয়মিত কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন ও ধারাবাহিক ফলো-আপ সেশনের মাধ্যমে এই অর্জিত দক্ষতাকে
ধরে রাখতে পারলে অতিথি গ্রুপ দেশের কর্পোরেট সেক্টরে একটি অনন্য এবং ঈর্ষণীয় রোল মডেল
হিসেবে নিজেদের অবস্থানকে আরও সুসংহত করতে পারবে।Bottom of Form