নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য শক্তি
‘গ্রেটার ইসরায়েল’ নামের জায়নবাদী রাজনৈতিক কৌশলের বিস্তার কেবল প্রাচীন ধর্মতাত্ত্বিক অবস্থান নয়। কিংবা নীল নদ থেকে ফোরাত নদী পর্যন্ত রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নেও সীমাব...
‘গ্রেটার ইসরায়েল’ নামের জায়নবাদী
রাজনৈতিক কৌশলের বিস্তার কেবল প্রাচীন ধর্মতাত্ত্বিক অবস্থান নয়। কিংবা নীল নদ থেকে
ফোরাত নদী পর্যন্ত রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নেও সীমাবদ্ধ নয়। আধুনিক প্রেক্ষাপটে এর লক্ষ্য
হলো নতুন নতুন ভূখণ্ড দখল করে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের একচ্ছত্র সামরিক আধিপত্য এবং রাজনৈতিক
প্রভাব আকাশছোঁয়া উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। এই প্রকল্পের মূলে রয়েছে সীমানা বিস্তার। একপ্রকার
দখলদারির সম্প্রসারণ। ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ মানে কেবল
কাঁটাতারের বেড়া বৃদ্ধি নয়, বরং এমন এক পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী
যেকোনো প্রতিবেশীর সীমানায় অবাধে অনুপ্রবেশ ও অপারেশন চালাতে পারবে।বিশ্লেষকদের
বড় অংশ মনে করে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব
টিকিয়ে রাখতেই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চাইছেন। প্রশ্ন হলো, এই সংঘাত কি কেবল নেতানিয়াহুর
ব্যক্তিজীবন বা তাঁর উগ্র সমর্থকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ? বাস্তব চিত্র বলছে অন্য কথা। ইসরায়েলের
রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত অভিজাত শ্রেণির কাছে ইরানের পরাজয় কেবল একটি সামরিক
বিজয় নয়; বরং এটি তাদের ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ প্রকল্প
বাস্তবায়নের পথে একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ। ইসরায়েল
এখন তার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে লোহিত সাগর হয়ে আফ্রিকার সোমালিয়া পর্যন্ত
বিস্তৃত করতে চায়। তারা চায় এমন এক আঞ্চলিক নিরাপত্তাবলয়, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের আরব
দেশগুলোয় তাদের নিজস্ব বা যৌথ ঘাঁটি থাকবে। যার মাধ্যমে তারা প্রয়োজনে যেকোনো দেশে
আগাম আক্রমণ চালিয়ে নিজেদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে।গত
কয়েক দশকে ইসরায়েল তার পথের অধিকাংশ বাধাই সরাতে পেরেছে, কিন্তু ইরান এখন পর্যন্ত অভেদ্য
প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পশ্চিমা মিডিয়ায় গুঞ্জন রয়েছে, ইরানে সরাসরি যুদ্ধে টানতে
ইসরায়েল ওয়াশিংটনকে ব্যাপক প্ররোচিত করছে। তবে তারা ইরানের পাল্টা সক্ষমতা ও অটল মনোভাবের
কাছে হোঁচট খেয়েছে। মাসখানেকের
সরাসরি যুদ্ধে ইসরায়েলের যে ব্যর্থতা ফুটে উঠেছে তা হলো, আমেরিকার প্রত্যক্ষ সাহায্য
ছাড়া ইরানের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানোর সক্ষমতা তাদের নেই। ইরান নিজেকে
শুধু রক্ষাই করেনি, বরং হরমুজ প্রণালির মতো বিশ্বের অন্যতম তেলের রুট নিয়ন্ত্রণে রেখে
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছে। এটি ইসরায়েলের ‘একচ্ছত্র আধিপত্য’ তৈরির স্বপ্নকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। মনে হচ্ছে, এক
ধরনের আতঙ্ক বা ফোবিয়ায় ইসরায়েল আক্রান্ত হয়েছে। মনে হচ্ছে, অস্তিত্ব সংকটে পড়ার মতো
কোনো অনুভূতি রাষ্ট্রটির নেতাদের আচ্ছন্ন করে ফেলেছে।ইসরায়েলি
প্রশাসনের এই বেপরোয়া পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় উল্টো ফল আসতে শুরু করেছে। ইসরায়েলের
তথাকথিত মিত্রদেশগুলোর কৌশলেও বদল আসতে পারে। যে আঞ্চলিক প্রতিরোধের মুখোমুখি ইসরায়েল
এখন হচ্ছে, তা কেবল ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের
অন্যান্য শক্তিও নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে।আল-জাজিরা
থেকে নেওয়া ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত