অকটেন নিয়ে বাজারে আতঙ্ক: মজুত ও চাহিদার হিসাব কী বলছে?

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেল, বিশেষ করে অকটেন কেনার প্রবণতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। বাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার গুজব ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে ব...

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেল, বিশেষ করে অকটেন কেনার প্রবণতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। বাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার গুজব ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন। ফলে হঠাৎ করেই অকটেনের চাহিদা দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে গত অর্থবছর (২০২৪–২৫) মোট প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার টন অকটেন বিক্রি হয়েছে। সেই হিসেবে দেশে প্রতিদিন গড়ে অকটেনের চাহিদা থাকে প্রায় ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতে পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র দেখিয়েছে। ১ থেকে ৪ মার্চের মধ্যে দৈনিক চাহিদা ২ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি হয়ে গেছে, যা স্বাভাবিক চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ। জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বলছে, এই হঠাৎ বেড়ে যাওয়া চাহিদার পেছনে মূল কারণ হলো ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কের কেনাকাটা। সাধারণ মানুষ ও কিছু ব্যবসায়ী ভবিষ্যতে সরবরাহ সংকট হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জ্বালানি কিনছেন। বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাস্তবে দেশের জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নিয়মিত আমদানি কার্যক্রমও অব্যাহত আছে। কিন্তু যদি অস্বাভাবিক হারে তেল সরবরাহ করা হয়, তাহলে দ্রুত মজুত কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে বিপিসি ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ সাময়িকভাবে কিছুটা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের মতে, এতে করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত মজুতের প্রবণতা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের বেশি তেল কেনা হলে সাময়িকভাবে বাজারে চাপ তৈরি হয়। এতে প্রকৃত ব্যবহারকারীরা সমস্যায় পড়তে পারেন। একই সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মজুত করে পরে বেশি দামে বিক্রি করার সুযোগ পেয়ে যায়। তাই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জ্বালানি তেলের প্রকৃত মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য জানানো এবং বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা গেলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কমবে।  বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার তেমন যৌক্তিকতা নেই। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি ব্যবহার ও কেনাকাটা করলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।