অস্থির বিশ্ব অর্থনীতি!
বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে, সেটা ইরান যুদ্ধ নিয়ে যে কোনো পূর্বাভাসেই বলা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে যে কোনো প্রশাসনের সময়ই এটা হতো। ট্রাম্প প্র...
বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতিতে
যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে, সেটা ইরান যুদ্ধ নিয়ে যে কোনো পূর্বাভাসেই বলা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে
যে কোনো প্রশাসনের সময়ই এটা হতো। ট্রাম্প প্রশাসন এই অর্থনৈতিক ধাক্কার মাঝেও নিজের
সামরিক অভিযান শেষ করার দৃঢ় সংকল্প দেখাচ্ছে, যেটা সবচেয়ে সম্ভাব্য দৃশ্যপটে বলা হয়েছে।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ ইঙ্গিতও দিয়েছেন, যে কোনো মুহূর্তে বিপরীত সিদ্ধান্ত নেওয়া
হতে পারে। যদি সত্যিই মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের কাজ শেষ করার আগেই কৌশল পরিবর্তনের
সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভারসাম্যকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। এই যুদ্ধ
শুরু করার যে যুক্তিই থাকুক না কেন, অভিযান তাড়াহুড়ো করে শেষ করলে তা ইরানের বর্তমান
শাসনব্যবস্থাকে আরও সাহসী করে তুলতে পারে। এতে ওই অঞ্চল ও বিশ্ব ব্যবস্থাকে আরও ঝুঁকিতে
ফেলে দিতে পারে। ইতিহাসে এর আগেও দেখা গেছে, সাধারণত বাইরে থেকে সামরিক চাপে কোনো দেশের
শাসন ব্যবস্থার দ্রুত পতন সম্ভব হয় না, যদি না অভ্যন্তরীণভাবে বিরোধীদের সংগঠিত ও সশস্ত্র
প্রতিরোধ গড়ে না ওঠে। যদিও এই অভিযান মূলত সীমান্তের বাইরে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবকে
সীমিত করার লক্ষ্যে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের জন্য এটা পর্যাপ্ত নয়।
আর এটা সম্ভব করতে হলে মার্কিন স্থলবাহিনী বা সংগঠিত বিরোধী শক্তি প্রয়োজন হবে। আর
এই দুটির কোনোটিই এই সামরিক অভিযানের পরিকল্পনায় সম্ভবত নেই। এ দুটি ছাড়া নিকট ভবিষ্যতে
তেহরানে শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা খুবই কম।ইরান যুদ্ধ সময়ে সময়ে নতুন
মোড় নিচ্ছে। এতে এই সংকট সরকার, বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ মানুষদের জন্য ক্রমশ অনিশ্চিত
হয়ে উঠছে। গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরান যুদ্ধ নিয়ে মিশ্র বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প।
তিনি এ যুদ্ধকে ‘স্বল্পকালীন অভিযান বলে উল্লেখ করছেন যা ‘শিগগিরই শেষ হতে পারে। আবার তিনি এও বলেছেন, ইরান যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র,
ইসরায়েল বা অন্য কোনো মিত্রের বিরুদ্ধে ব্যবহারযোগ্য অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা দীর্ঘ সময়ের
জন্য না হারাবে, ততক্ষণ এই যুদ্ধ শেষ হওয়া উচিত হবে না। তাহলে এই পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে
দাঁড়াবে? এখন অনেক কিছুই নির্ভর করছে সেসব নেতার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর, যাঁরা
অনেক বেশি অনিশ্চিত আচরণ করেন। এই নেতাদের একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আর এখন সম্ভবত ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও রয়েছেন। মোজতবা খামেনি সম্পর্কে
এখনো তেমন কিছু জানা যায়নি এবং তিনি পরীক্ষিত নেতাও নন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট
ডোয়াইট ডি আইজেন হাওয়ার বলেছিলেন, কোনো সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়কেরই যুদ্ধের সম্ভাব্য
সব পরিণতি ‘নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে কঠোরভাবে বিশ্লেষণ না করে
চূড়ান্ত সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। কারণ যুদ্ধ শুরু হলে গেলে, তা অপ্রত্যাশিতভাবে
এগোতে পারে এবং পরিকল্পনার বিপরীত ফলাফল বয়ে আনতে পারে।