পেট্রল ও অকটেনের দেশীয় উৎপাদনে জ্বালানি নিরাপত্তা ইতিবাচক!
বাংলাদেশে চলমান জ্বালানি সংকট কেবল একটি অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি গভীর রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের যে রূপান্তর ঘটছে, তা...
বাংলাদেশে চলমান জ্বালানি
সংকট কেবল একটি অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি গভীর রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধের
প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের যে রূপান্তর ঘটছে, তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বর্তমান
সরকারকে অনেক বেশি কৌশলী হতে হবে। মজুত ধরে রাখা এবং সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায়
রাখা, প্যানিক বায়িং বন্ধে জনগণের আস্থা অর্জন করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী
কূটনৈতিক অবস্থান নিশ্চিত করাই হতে পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ। বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতি
যেমন চীন, জাপান ও ইউরোপের দেশগুলো এখন জ্বালানি মজুতের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ফলে বাংলাদেশের
মতো দেশের জন্য উচ্চমূল্য দিয়েও দ্রুত জ্বালানি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। কাতার থেকে এলএনজি
সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সরকার খোলাবাজার বা স্পট মার্কেট থেকে রেকর্ড দামে এলএনজি
কিনতে বাধ্য হচ্ছে। আগে যা ১০ ডলারে পাওয়া যেত, এখন তা ২৫ থেকে ২৮ ডলারে কিনতে হচ্ছে,
যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের
হামলা এবং এরপর ইরানের পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধের দামামা বাজছে, তার সরাসরি
প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি বর্তমানে
প্রায় বন্ধ। ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল শোধন করলেও বর্তমানে
তাদের হাতে মজুত আছে মাত্র দেড় লাখ টন। দিনে ৪ হাজার টন শোধন ক্ষমতার বিপরীতে এই মজুত
দিয়ে বড়জোর আগামী মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার
ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দিক ছিল পেট্রল ও অকটেনের দেশীয় উৎপাদন। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী,
অকটেনের ৫০ শতাংশ এবং পেট্রলের শতভাগ দেশেই উৎপাদিত হয়। তবে এই উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল
হলো বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া ‘কনডেনসেট’। বর্তমানে দেশের চারটি বেসরকারি শোধনাগার এবং সরকারি
ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) কনডেনসেট শোধন করে পেট্রল ও অকটেন উৎপাদন করছে।
কিন্তু যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কনডেনসেট আমদানি ব্যাহত হলে এই দেশীয়
উৎপাদন ব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়বে। যদি জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হয় এবং
দামের লাগাম টেনে ধরা না যায়, তবে তা শিল্প উৎপাদন ও কৃষি খাতের বড় ক্ষতি করবে।