প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অতিথি গ্রুপের বক্তব্য।

গত ২৯ জুন, ৩০ জুন এবং ০১ জুলাই ২০২৬ দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় যথাক্রমে ‘‘অতিথি ডটকম’ এর অন্ধকার ফাঁদ (১): জেল থেকে ছাড়া পেয়েই সাইফুলের নয়া মিশন...’, ‘‘অতিথি ডটকম’...

গত ২৯ জুন, ৩০ জুন এবং ০১ জুলাই ২০২৬ দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় যথাক্রমে ‘‘অতিথি ডটকম’ এর অন্ধকার ফাঁদ (১): জেল থেকে ছাড়া পেয়েই সাইফুলের নয়া মিশন...’, ‘‘অতিথি ডটকম’ এর অন্ধকার ফাঁদ (২): তরুণদের ফাঁদে ফেলতে অভিনব প্রলোভন...’ এবং ‘অতিথি ডটকমের অন্ধকার ফাঁদ (শেষ): পরিস্থিতি বেগতিক পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাইফুল’ শিরোনামে প্রকাশিত তিন পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত প্রতিবেদন তিনটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমরা এই বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রতিবেদনগুলোতে আমাদের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ‘অতিথি ডটকম’ এবং এর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে জড়িয়ে যে ধরনের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, কাল্পনিক এবং চরম বিভ্রান্তিকর। মূলত একটি উদীয়মান দেশীয় ডিজিটাল স্টার্টআপ-কে ধ্বংস করা এবং এর সাথে জড়িত তরুণ উদ্যোক্তাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই একটি স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল আমাদের এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটির অভূতপূর্ব ব্যবসায়িক সাফল্য ও অগ্রযাত্রায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এর সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। উক্ত কুচক্রী মহলটি যুগান্তরের সম্মানিত প্রতিবেদককে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, একপেশে ও মনগড়া তথ্য সরবরাহ করে এবং তাকে ভুল বুঝিয়ে এই বিভ্রান্তিকর সংবাদটি পরিবেশন করিয়েছে। আবারও আমরা এই অসত্য ও কুচক্রী মহলের সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। প্রকৃত সত্য এই যে, ‘অতিথি ডটকম’ দেশের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান সুচারুভাবে মেনে নিবন্ধিত এবং সম্পূর্ণ বৈধ উপায়ে পরিচালিত একটি শীর্ষস্থানীয়, আধুনিক আইটি ও ট্রাভেল টেকনোলজি প্ল্যাটফর্ম। প্রতিষ্ঠানটিকে কোন মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) বা তথাকথিত কোন নেতিবাচক চক্রের সাথে তুলনা করা সম্পূর্ণ অন্যায়, অযৌক্তিক এবং সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ। প্রতিবেদনে অতিথি ডটকমকে ই-কমার্সের নামে এমএলএম বা পিরামিড স্কিম এবং এর প্রজেক্টগুলোকে কাল্পনিক ও ভুঁইফোঁড় হিসেবে যেভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ। এমনকি সংবাদটিতে সাইফুল ইসলাম নামক ব্যক্তির কারামুক্তি বা নতুন কোন তথাকথিত ‘মিশন’ ও ‘পালানোর প্রস্তুতি’ নিয়ে যে মুখরোচক গল্প সাজানো হয়েছে, তার সাথে বাস্তবতার দূরতম কোন সম্পর্ক নেই। তরুণদের প্রলোভন দেখানো বা কোন অন্ধকার ফাঁদ পাতার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মনগড়া। আমরা কোন গ্রাহককে অবাস্তব ‘কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন’ বা কোন প্রলোভন দেখাই না, বরং একটি সুনির্দিষ্ট, আধুনিক ও যুগোপযোগী ডিজিটাল বিজনেস মডেলের মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে গ্রাহকসেবা, ট্রাভেল বুকিং এবং আইটি ও ডিজিটাল ট্রেনিংয়ের মতো আধুনিক সেবাগুলোকে আইনি কাঠামোর মধ্যেই পরিচালনা করে আসছি, যা কোনভাবেই কোন নিষিদ্ধ স্কিমের আওতাভুক্ত নয়। আমরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানাতে চাই যে, ‘অতিথি ডটকম’ এর কোন কার্যক্রমে কোন ধরনের বেআইনি ‘মানি সার্কুলেশন’ বা প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয় না। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে প্রস্তাবিত রিসোর্ট অ্যান্ড থিম পার্ক প্রজেক্ট এবং এর শেয়ার সংক্রান্ত যে কাল্পনিক আর্থিক হিসাব ও শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অবাস্তব দাবি করা হয়েছে, তার কোন প্রাতিষ্ঠানিক বা আইনি ভিত্তি নেই। প্রতিষ্ঠানটি নিয়মমাফিক জমি ক্রয় ও প্রজেক্টের প্রাথমিক কাজ পরিচালনা করছে, যা সম্পূর্ণ দৃশ্যমান এবং বৈধ। একইভাবে, প্রতিবেদনে আমাদের স্মার্ট হোটেল ও রিসোর্ট বুকিং প্রজেক্টের শেয়ার বিক্রয় এবং ৫২৭ কোটি টাকা ঝুঁকিতে থাকার যে কাল্পনিক দাবি করা হয়েছে, তার কোন প্রাতিষ্ঠানিক বা বাস্তব ভিত্তি নেই। আমাদের শেয়ার ও অংশীদারিত্বের সকল প্রক্রিয়া দেশের প্রচলিত কর্পোরেট আইন, কোম্পানি আইন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের নিয়মাবলী শতভাগ অনুসরণ করে অত্যন্ত নিখুঁত ও স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করা হয়। ফলে এখানে সাধারণ মানুষের বা কোন বিনিয়োগকারীর অর্থ ঝুঁকিতে পড়ার কোন প্রকার সুযোগ বা অবকাশ নেই। প্রতিবেদনে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের হাত ধরে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরুর যে রাজনৈতিক সংশ্লেষ খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে, তাও সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর। দেশের ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারে বিভিন্ন সময়ে সরকারি উদ্যোগে দেশের শীর্ষস্থানীয় আইটি খাতের প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের পেশাদারী অংশগ্রহণকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে ভিন্ন খাতে মোড় নেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে মাত্র। কতিপয় ব্যক্তির ব্যক্তিগত অতীতকে টেনে এনে একটি উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করার এই অপচেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক। জনাব সাইফুল ইসলাম এবং তার সহকর্মীদের জড়িয়ে যেসব ‘জেল পার্টনার’ বা ‘ডেসটিনির প্রতারণা’ সংক্রান্ত মুখরোচক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গল্প সাজানো হয়েছে, তার সাথে ‘অতিথি ডটকম’ এর বর্তমান প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম কিংবা আর্থিক স্বচ্ছতার দূরতম কোন সম্পর্ক নেই। এটি কেবলই প্রতিষ্ঠানের ইমেজ সংকটে ফেলার এবং বাজারে একটি সম্ভাবনাময় ও সফল আইটি উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করে আড়ালে কোন মহলের ফায়দা লুটার অপচেষ্টা মাত্র। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পূর্বে আমাদের পক্ষের কোন বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নেওয়া হয়নি, যা বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থী। স্বার্থান্বেষী মহলের সাজানো ফাঁদে পড়ে এবং বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত না করে এই মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের ফলে আমাদের প্রতিষ্ঠানের যে অপূরণীয় ব্যবসায়িক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য আমরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার স্বার্থে যেকোন সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঠিক বক্তব্য ও সত্যতা যাচাই করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। পরিশেষে আমরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর ও কাল্পনিক সংবাদটির সাথে বাস্তবের কোন মিল নেই। এইসব বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে তৈরি সংবাদটি আমাদের সম্মানিত গ্রাহক, বিনিয়োগকারী এবং শুভানুধ্যায়ীদের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির একটি সুগভীর ষড়যন্ত্র মাত্র। আমরা এই মনগড়া প্রতিবেদনের প্রতিটি তথ্যের সাথে তীব্র ভিন্নমত পোষণ করছি এবং একটি কুচক্রী ও স্বার্থান্বেষী মহলের ইশারায় তৈরি এই অসত্য ও সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার তীব্র নিন্দা ও জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ধন্যবাদান্তে,ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ‘অতিথি ডটকম’ ঢাকা, বাংলাদেশ।