পৃথিবী থেকে ৪ লাখ কিলোমিটার দূরে মানুষ, ইতিহাস গড়ল আর্টেমিস–২
মানুষের মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে যুক্ত হলো নতুন এক অধ্যায়। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস–২ চন্দ্রাভিযানে অংশ নেওয়া চার নভোচারী পৃথিবী থেকে সবচ...
মানুষের মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে যুক্ত হলো নতুন এক অধ্যায়। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস–২ চন্দ্রাভিযানে
অংশ নেওয়া চার নভোচারী পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে পৌঁছে গড়েছেন নতুন রেকর্ড।
চাঁদের পেছন দিক অতিক্রম করে তাঁরা মানবজাতির মহাকাশ অভিযানে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন
করেছেন।এই চার নভোচারী হলেন নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা
কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চাঁদের পেছন
দিক থেকে ফিরে নাসার নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনের মুহূর্তটি ছিল
আবেগঘন ও ঐতিহাসিক। যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের পর নভোচারী ক্রিস্টিনা কোচ বলেন,পৃথিবী থেকে আবারও
শব্দ শুনতে পাওয়াটা সত্যিই অসাধারণ আনন্দের।গতকাল সোমবার গ্রিনিচ মান সময় বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে, আর্টেমিস–২ এর নভোচারীরা
যখন চাঁদের পেছন দিকের সবচেয়ে দূরবর্তী অবস্থানে পৌঁছান, তখন পৃথিবী থেকে তাঁদের দূরত্ব
ছিল প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার বা প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৬০ মাইল। এটাই মানব ইতিহাসে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে মানুষের ভ্রমণ। এর আগে কোনো
মানুষ এত দূর মহাকাশে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে এই যাত্রার মধ্য দিয়ে নতুন করে লেখা হলো
মানব মহাকাশ অভিযানের রেকর্ড বই।সর্বশেষ ১৯৭২ সালে মানুষ চাঁদে গিয়েছিল। সেই দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মানুষকে
চাঁদের পথে ফেরানোর পরিকল্পনায় আর্টেমিস কর্মসূচিকে ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের ভিত্তি
হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর্টেমিস–২ শুধু একটি প্রতীকী মিশন নয়, বরং এটি
ভবিষ্যতে মানুষের চাঁদে পুনরায় অবতরণ, এমনকি মঙ্গলগ্রহ অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবেও
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।চাঁদের পেছন দিক ঘুরে নিরাপদে ফিরে এসে এই চার নভোচারী শুধু একটি বৈজ্ঞানিক
সাফল্যই অর্জন করেননি, তাঁরা মানবজাতির কৌতূহল, সাহস এবং অজানাকে জয় করার অদম্য ইচ্ছারও
প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
আর্টেমিস–২ এর এই সাফল্য স্পষ্ট করে দিয়েছে, মহাকাশ
এখন আর শুধু গবেষণার ক্ষেত্র নয়, বরং মানব সভ্যতার পরবর্তী বড় গন্তব্য।