পর্যটন খাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির বড় সুযোগ কাজে লাগাতে চায় ‘অতিথি‘
আবদুর রহমান খানপর্যটন খাত বর্তমানে অন্যতম বৃহত্তম শিল্প এবং দ্রুত বর্ধনশীল আয়বর্ধক খাতগুলোর মধ্যে একটি হয়ে উঠেছে। যা সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে একট...
আবদুর রহমান
খানপর্যটন খাত
বর্তমানে অন্যতম
বৃহত্তম শিল্প এবং দ্রুত বর্ধনশীল
আয়বর্ধক খাতগুলোর মধ্যে একটি হয়ে উঠেছে।
যা সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে একটি দেশের অর্থনৈতিক
উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদিও দেশের পর্যটন খাতে অনেক চ্যালেঞ্জ
রয়েছে। তবুও এ খাতে গ্রাহক সেবাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে-নতুন পর্যটন স্পট তৈরী,
এর আধুনিকায়ন বা দৃষ্টিনন্দন নির্মাণ শৈলী ও প্রশিক্ষিত কর্মী বাহিনীর যোগানে নিরলস
কাজ করছে অতিথি গ্রুপ।সম্প্রতি প্রকাশিত
একটি গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে-প্রয়োজনীয় অর্থায়ন,দুর্বল অবকাঠামো, ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা, আধুনিক হোটেল ও সহনীয় খরচের স্বল্পতা,
পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের অপ্রতুলতা, নিরাপত্তা জনিত জটিলতা, বাস ও বিমান ভাড়ার উচ্চ মূল্য, আন্তর্জাতিক বাজারে
প্রচারের অভাব এবং পর্যটন সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের প্রশিক্ষণের ঘাটতি এ খাতের অন্তরায়।রাজধানীতে অনুষ্ঠিত
এক সেমিনারে অতিথি গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন সাইফুল ইসলাম সোহেল (পিএমজেএফ) বলেছেন।
আমাদের কোম্পানী আইটি নির্ভর দূর-দৃষ্টি সম্পন্ন একটি প্রতিষ্ঠান। যার মাধ্যমে আধুনিক
পর্যটন সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার অবিরাম চেষ্টা চলছে। কারণ বাংলাদেশ
সবেমাত্র
মধ্যম আয়ের দেশে অগ্রযাত্রা করছে। যার অর্থনীতি
কৃষি, তৈরি পোশাক এবং
শ্রম রপ্তানির উপর নির্ভরশীল। তাই সরকারের সাথে সাথে এ প্রতিষ্ঠানটিও ট্যুরিজমে
কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখতে চায়।তিনি বলেন,
শুধুমাত্র পর্যটনের
মাধ্যমেই দেশের প্রতিটি কোণে সরাসরি অর্থ
সঞ্চালন করা সম্ভব। কারণ পর্যটকরা
গন্তব্যে সাধ্য অনুযায়ী অর্থ ব্যয় করেন।
এর ফলে স্থানীয় মানুষ
আরও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়। এ ছাড়াও স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার, স্থানীয় উদ্যোক্তা তৈরিসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তি সমৃদ্ধ করা সম্ভব। এর মধ্যে পর্যটকদের
দ্বারা সরাসরি সমর্থিত রেস্তোরাঁ এবং অবসর বিনোদন
শিল্পের কার্যক্রমও এর অন্তর্ভুক্ত। তাই
সারাদেশে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরী ও দক্ষ জনবল প্রস্তুত
করছে অতিথি ডট কম ও অতিথি স্কিল ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড। এক তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৭
সালের মধ্যে, ভ্রমণ ও পর্যটন খাত
সরাসরি ১১ লাখ ৩৮
হাজার কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবে। যা আগামী ১০ বছরে বার্ষিক
০.৬% হারে
বৃদ্ধি পাবে। অথচ অতিথি গ্রুপ ২০৩০ সালের মধ্যেই
এ খাতে ১০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির
উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।অপরদিকে গবেষকরা
মনে করছেন, বাংলাদেশকে
একটি অগ্রাধিকারমূলক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার জন্য
বর্তমানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ অপর্যাপ্ত। এ ছাড়া পরিষেবা প্রদানকারী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের
মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও প্রধান প্রতিবন্ধকতা। এ কারণে, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে পর্যটন সেক্টরে বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আর ‘অ্যাকাডেমি
অফ অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল স্টাডিজ জার্নাল‘ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
বাংলাদেশে বিদেশি এবং স্থানীয় উভয়
বিনিয়োগকারীদের এ খাতে বিনিয়োগে
বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি, পর্যটন শিল্প দেশের ঐতিহ্য, রীতিনীতি, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ইতিহাসের মাধ্যমে
দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরি করে।
যেহেতু পর্যটন একটি কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী
শিল্প, তাই এটি একটি
দেশকে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়তে এবং জীবনযাত্রার মান
উন্নয়নে সহায়তা করে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী
পর্যটন খাতের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য বিনিয়োগের সুফল
ও অসুবিধাগুলো খুঁজে বের করাই ছিল এই গবেষণার
মূল উদ্দেশ্য।অপরদিকে বিশ্বের
অনেক দেশ যেমন-থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া,
সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ড পর্যটন-বান্ধব পরিবেশ তৈরি ও তাতে
মনোযোগ দেওয়ার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক
ভিত্তি গড়ে তুলেছে। একই
সঙ্গে বজায় রেখেছে প্রচেষ্টা। এ ছাড়া নেপাল, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইনের মতো কিছু দেশ
প্রধানত পর্যটন শিল্পের উপর নির্ভরশীল।উল্লেখ্য, গবেষণা
প্রতিবেদনে বাংলাদেশ
পর্যটন ও বিনিয়োগ নীতি
বিষয়ে ব্যাপক জ্ঞানসম্পন্ন ১৫ জন শিল্প
বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত একটি ফোকাস
গ্রুপে আলোচনার পর, পর্যটন সম্ভাবনা,
বিনিয়োগের
ধারা এবং সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতার
মতো কিছু প্রাসঙ্গিক বিষয়ে
সরকারি ও বেসরকারি খাতের
১২০ জন পর্যটন সংশ্লিষ্ট
ব্যক্তির সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে।