প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য, পিছিয়ে নেই ‘অতিথি গ্রুপ‘
আবদুর রহমান খানবর্তমানে বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম, সরকারি সেবা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে প্রযুক্তির জয়-জয়কার। কিন্তু এর সফলতায় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দক্ষ জন...
আবদুর রহমান খানবর্তমানে বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম, সরকারি সেবা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে
চলছে প্রযুক্তির জয়-জয়কার। কিন্তু এর সফলতায় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দক্ষ জনবল। তবুও একবিংশ
শতাব্দীর বিশ্ব অর্থনীতি এখন পুরোপুরি দাঁড়িয়ে আছে প্রযুক্তির ওপর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
(এআই), অটোমেশন, ফিনটেক ও ডেটা নির্ভর প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য
ও শিল্পোৎপাদনের রূপরেখা।এ বিষয়টি সামনে রেখে প্রচলিত ব্যবসাকে ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন
উচ্চতায় পৌঁছে দিতে কাজ করছে অতিথি গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি মনে করে, আধুনিক প্রযুক্তির
ব্যবহার ছাড়া পর্যটন ও বুকিং খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা সম্ভব নয়। তাই অতিথি ডট কম এ খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরী এবং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি,
ডিজিটাল মার্কেটিং, অনলাইন বুকিং সিস্টেম এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নয়ন কার্যক্রমকে ধারাবাহিক
কর্মসূচী হিসেবে গ্রহণ করেছে। যাতে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে
দেশের পর্যটন শিল্পসহ সকল ধরণের ব্যবসায়, একটি শক্তিশালী ও টেকসই প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠে।সে কারণে গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান অতিথি স্কিল ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড প্রযুক্তিখাতে
আগ্রহীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি বিষয়ক
সেমিনারের আয়োজন করছে। অংশগ্রহণকারীরা এখানে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ, বিষয়ের ওপর প্রশ্নোত্তর
পর্ব এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করার সুযোগ পাচ্ছেন।অপরদিকে, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) হিসাব অনুযায়ী, আগামী
এক দশকের মধ্যে শুধু এআই-প্রযুক্তির ওপর ভর করেই বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যোগ হবে ১৫ ট্রিলিয়ন
ডলারের বেশি। প্রযুক্তিনির্ভর এই অর্থনৈতিক রূপান্তর থেকে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। তাই
কৃষি ও ঐতিহ্যবাহী ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে এখন মূল চালিকাশক্তি
হয়ে উঠছে তথ্যপ্রযুক্তি খাত।ফলে দেশের অর্থনীতিতে প্রযুক্তির ইতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে
সেবা ও আর্থিক খাতে। এ ছাড়াও মোবাইল ব্যাংকিং ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার কারণে প্রথাগত
ব্যাংকিং সুবিধার বাইরে থাকা কোটি মানুষ এখন মূলধারার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত।
এটি ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ব্যবসাকে গতিশীল করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারে টাকার সঞ্চালনও
বাড়িয়েছে।অপরদিকে, দেশে গড়ে ওঠা বিশাল তরুণ প্রযুক্তিবিদদের দল আন্তর্জাতিক আউটসোর্সিং
বাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। বর্তমানে আইটি সেবা রফতানি থেকে আসা আয় দেশের
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া লজিস্টিকস এবং ই-কমার্স ভিত্তিক দেশীয় স্টার্টআপগুলো আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার
ক্যাপিটাল ফান্ড আকর্ষণ করছে। এতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি দেশীয় সেবা খাতের
আমূল পরিবর্তন ঘটছে।এদিকে প্রযুক্তিনির্ভর এই অর্থনীতি গড়ার পথে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি
হয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকট দক্ষ কারিগরি জনবলের। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মানের সাইবার
সিকিউরিটি ব্যবস্থায় দুর্বলতা আর উচ্চগতির ইন্টারনেটের অসম বৈষম্য এবং শহর ও গ্রামের
মধ্যে ‘ডিজিটাল বিভাজন‘ বড় বাঁধা হয়ে
দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে প্রযুক্তিতে কর্ম দক্ষতার অভাবে বৈশ্বিক কিছু সম্ভাবনাময় ব্যবসাও
হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দৌড়ে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে কেবল
প্রযুক্তির ভোক্তা হিসেবে থাকলে চলবে না, বরং উদ্ভাবক হিসেবে তৈরি হতে হবে। প্রযুক্তিভিত্তিক
এই রূপান্তরকে কাজে লাগাতে পারলে আগামী দিনে একটি টেকসই, কর্মসংস্থানমুখী ও আধুনিক
অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।