রাজধানীতে জমতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট, বাড়ছে নিরাপত্তা প্রস্তুতি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে প্রাণচাঞ্চল্য। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকভর্তি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া ঢাক...

পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে প্রাণচাঞ্চল্য। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকভর্তি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া ঢাকায় আসতে শুরু করেছে। যদিও এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি বেচাকেনা, তবে সকলের  প্রত্যাশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানীর হাটগুলো ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে।শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) রাজধানীর শনিআখরা, কাজলা, মাতুয়াইল এবং পোস্তগোলা শ্মশানঘাট এলাকার কোরবানির পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পশু হাটে উঠতে শুরু করেছে। কোথাও ট্রাক থেকে পশু নামানো হচ্ছে, কোথাও খামারিরা অস্থায়ীভাবে অবস্থানের ব্যবস্থা করছেন। হাটজুড়ে প্রস্তুতির ব্যস্ততা থাকলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি এখনো তুলনামূলকভাবে কম। হাটে আসা কয়েকজন খামারি জানান, ঈদের এখনও কিছুদিন বাকি থাকায় অধিকাংশ ক্রেতা বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়বে এবং বেচাকেনাও জমে উঠবে বলে তারা আশাবাদী। এদিকে কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও ইজারাদার কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। হাট কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে রাতের বেলায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে খামারি, ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা নির্বিঘ্নে অবস্থান ও লেনদেন করতে পারেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন হাটে পশুর সরবরাহ আরও বৃদ্ধি পাবে। তখন হাটগুলোতে কোরবানির উৎসবমুখর পরিবেশ পুরোপুরি দৃশ্যমান হবে এবং বেচাকেনায় গতি আসবে।পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এ বছর রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট ২৭টি অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় বসবে ১১টি হাট। এর মধ্যে রয়েছে পোস্তগোলা শ্মশানঘাট, হাজারীবাগ লেদার টেকনোলজি মাঠ, পোস্তগোলা লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাব, রহমতগঞ্জ ক্লাব, আমুলিয়া মডেল টাউন, ধোলাইখাল, শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ মাঠ, কমলাপুর ব্রাদার্স ইউনিয়ন, দনিয়া কলেজ মাঠ, মাতুয়াইল হাসপাতাল এলাকা এবং ডেমরা কাঁচামাল আড়তের খালি জায়গা। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় বসবে ১৬টি হাট। এসব হাটের মধ্যে রয়েছে উত্তরা দিয়াবাড়ী, ঢাকা পলিটেকনিক মাঠ, মিরপুর সেকশন-৬ ও কালশী বালুর মাঠ, খিলক্ষেত মস্তুল, স্বদেশ প্রপার্টিজ, বড় বেরাইদ, পূর্ব হাজীপাড়া, কাঁচপকুরা, বনরূপা আবাসিক এলাকা, কাওলা শিয়ালডাঙ্গা, বসিলা, মাটিকাটা এবং উত্তরখানসহ বিভিন্ন স্থান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং খামারিদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এবারের কোরবানির পশুর বাজার হবে আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও ক্রেতাবান্ধব। রাজধানীবাসীও স্বস্তির সঙ্গে তাদের পছন্দের পশু কিনতে পারবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।