রমজানের শেষ দশক শুরু: ইতিকাফে আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহমুখী হওয়ার আহ্বান

আজ ১১ মার্চ, পবিত্র মাহে রমজানের ২১তম দিন। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে রমজানের শেষ দশক, যা মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই সময়টিতে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপ...

আজ ১১ মার্চ, পবিত্র মাহে রমজানের ২১তম দিন। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে রমজানের শেষ দশক, যা মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই সময়টিতে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি অনেক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি মসজিদে ইতিকাফে বসেন। ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্য হলো নিজেকে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর ইবাদতে নিয়োজিত করা এবং পার্থিব ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকে আত্মশুদ্ধি অর্জন করা। সাধারণ জীবনে মানুষ সংসার, ব্যবসা-বাণিজ্য, দায়িত্ব-কর্তব্য ও নানা দুশ্চিন্তায় ব্যস্ত থাকে। কিন্তু ইতিকাফের মাধ্যমে একজন মুমিন কিছু সময়ের জন্য এসব পার্থিব ব্যস্ততা থেকে নিজেকে আলাদা করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন। এই সময় তিনি নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়া-মোনাজাতে বেশি মনোযোগ দেন। ইতিকাফ মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল। তিনি নিয়মিত রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ পালন করতেন। এ বিষয়ে হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বর্ণনা করেন, “রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক রমজানে শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করতেন।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০৪৪) সাহাবায়ে কেরামও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ইতিকাফ পালন করতেন এবং মুসলিম সমাজে এই সুন্নতকে জীবিত রাখতে সচেষ্ট ছিলেন। ইসলামী চিন্তাবিদরা মনে করেন, ইতিকাফ একজন মানুষের আত্মিক উন্নতি ঘটায় এবং তাকে পাপ থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করে।  মাহে রমজান মুমিনের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের মাস। বিশেষ করে শেষ দশকে লাইলাতুল কদর লাভের আশায় মুসল্লিরা অধিক ইবাদতে মনোনিবেশ করেন। তাই আলেমরা সবাইকে এই সময় বেশি বেশি ইবাদত, তওবা ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন।