রপ্তানিতে অনিশ্চয়তা মধ্যপ্রাচ্য সংকটে!

বাংলাদেশের জন্য একটি সম্প্রসারণশীল বাজার মধ্যপ্রাচ্য। প্রবাসীদের পাশাপাশি সেখানকার স্থানীয় ভোক্তাদের চাহিদা লক্ষ্য করেও বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানি বাড়ছিল। যুদ্ধ...

বাংলাদেশের জন্য একটি সম্প্রসারণশীল বাজার মধ্যপ্রাচ্য। প্রবাসীদের পাশাপাশি সেখানকার স্থানীয় ভোক্তাদের চাহিদা লক্ষ্য করেও বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানি বাড়ছিল। যুদ্ধের কারণে ঝুঁকি বেড়েছে এই বাজারে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায়। সংঘাত দ্রুত শেষ হলে বাজার ও পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর সম্ভাবনা আবারও সামনে আসবে।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সংঘাত দ্রুত পারস্য উপসাগর অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার ঘোষণা দেয় ইরান। ফলে ইরানসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও সৌদি আরবের বড় অংশে সমুদ্রপথে রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। হরমুজের কাছাকাছি থাকা ওমানেও পণ্য পাঠানো বন্ধ। সমুদ্রপথে রপ্তানি বন্ধ থাকলেও সীমিত পরিসরে বিমানপথে কিছু পণ্য যাচ্ছে। তবে এই আট দেশে মোট রপ্তানির প্রায় ১৯ শতাংশ যায় উড়োজাহাজে। বাকি ৮১ শতাংশই সমুদ্রপথে পরিবহন করা হয়, যা এখন প্রায় বন্ধ। বাংলাদেশের অনেক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান প্রথমে প্রতিবেশী ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে পণ্য পাঠিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরে তাদের রপ্তানির প্রধান গন্তব্য হয়ে ওঠে মধ্যপ্রাচ্যের বাজার। এরপর সক্ষমতা আরও বাড়লে তারা ইউরোপ ও আমেরিকার বড় বাজারে প্রবেশ করেন। গত বছর ভারতের বিধিনিষেধে ছোট রপ্তানিকারকেরা একবার বড় ঝুঁকিতে পড়েছিলেন। সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট তাদের জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। দুই সপ্তাহ ধরে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ থাকায় এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়েছে নিয়মিত ও অনিয়মিতভাবে রপ্তানি করা প্রায় দুই হাজার পণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। এনবিআরের হিসাবে তৈরি পোশাক ও তৈরি পোশাকবিহীন পণ্য এই দুই ধরনের পণ্য রপ্তানি হয় মধ্যপ্রাচ্যে। গত অর্থবছরে ওই অঞ্চলে তৈরি পোশাক ছাড়া ৪৯৩ ধরনের পণ্য রপ্তানি হয়েছে (আট ডিজিটের এইচএস কোড অনুযায়ী)। এর মধ্যে প্রধান পণ্য ছিল পাটজাত পণ্য, বিস্কুট ও পানীয়সহ খাদ্যপণ্য, সবজি, মসলা, পানপাতা, তামাক ও জুতা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে পারস্য উপসাগরীয় আট দেশে বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৫ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এসব পণ্য রপ্তানি করেছে ১ হাজার ৮২৩টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ৫৮০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাদের মোট রপ্তানির ৫০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশই এই আট দেশে গেছে। জাতিসংঘের (ইএসসিডব্লিউএ) তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরের সাতটি দেশ ২০২৪ সালে প্রায় ৮৯১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো তুলনামূলক কম হলেও এই বাজারে সম্প্রসারণের বড় সুযোগ রয়েছে।