সারাদেশে প্রযুক্তিতে দক্ষ ও সময়োপযোগী উদ্যোক্তা তৈরী করছে ‘অতিথি‘
আবদুর রহমান খানপ্রথাগত কাঁচামাল কিংবা সস্তা শ্রম নয়-একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব অর্থনীতি এখন পুরোপুরি দাঁড়িয়ে আছে প্রযুক্তির ওপর। তাই দেশের অর্থনীতিতে এখন মূল চালিকাশ...
আবদুর রহমান
খানপ্রথাগত
কাঁচামাল কিংবা সস্তা শ্রম নয়-একবিংশ
শতাব্দীর বিশ্ব অর্থনীতি এখন পুরোপুরি দাঁড়িয়ে
আছে প্রযুক্তির ওপর। তাই দেশের অর্থনীতিতে
এখন মূল চালিকাশক্তি হয়ে
উঠছে তথ্যপ্রযুক্তি খাত। এ কারণে ‘অতিথি গ্রুপে‘র ব্যবসার মূল অগ্রাধিকারগুলোর একটি হলো তরুণদের
প্রযুক্তিতে দক্ষ ও সময়োপযোগী করে তোলা। ‘অতিথি গ্রুপ‘মনে
করে-কেবল তাত্ত্বিক শিক্ষা নয় বরং ব্যবহারিক
কাজের মাধ্যমে তরুণদের আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা
সম্ভব হলেই, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে সারাদেশে
বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা
পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। তাই প্রযুক্তিভিত্তিক পেশাদার বিষয়গুলোতে তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।এ ছাড়া নতুন
উদ্যোক্তা তৈরি ও স্টার্টআপ সহযোগিতা
এবং প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসায়িক আইডিয়া রয়েছে এমন তরুণদের প্রাথমিক
পরামর্শ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও কাঠামোগত সুযোগ
এনে দিচ্ছে ‘অতিথি ডট কম‘।দেশীয় এক গবেষণায়
দেখা গেছে, “দেশের তৃণমূল
স্তর পর্যন্ত ইন্টারনেটের বিস্তার ঘটলেও দক্ষ জনবলের অভাবে
অনেক উদ্যোক্তাই পুরোপুরি
প্রযুক্তির সুফল ভোগ করতে পারছেন
না।“ এ ধরণের গবেষণা রিপোর্ট বিশ্লেষণ
করে, জনবলের ঘাটতি
পূরণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহজ সেবা পেতে সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে ‘অতিথি
গ্রুপ‘।আর প্রতিষ্ঠানটির
একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রযুক্তিনির্ভর তরুণ সমাজই আগামী
দিনের সমৃদ্ধ অর্থনীতির মূল ভিত্তি। তাই
স্থানীয় আইটি খাতকে শক্তিশালী
করার পাশাপাশি, বৈশ্বিক সেবা রফতানিতে দেশের
তরুণদের অংশীদারত্ব বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এদিকে, প্রযুক্তি
বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদদের মতে,
‘অতিথি গ্রুপে‘র মতো বেসরকারি ও
কর্পোরেট উদ্যোগগুলো যদি সরকারি নীতিমালার
সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করে।
তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি টেকসই ও
মেধাভিত্তিক ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব।বাংলাদেশের
স্টার্টআপ এর সম্ভাবনা ও
চ্যালেঞ্জ নিয়ে গণমাধ্যমের
জন্য লেখা ই-ক্যাবের সাবেক
ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন শিপন তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের
জন্য স্টার্টআপের অপার সম্ভাবনা থাকলেও এর পূর্ণাঙ্গ বিকাশের পথে এখনো অনেক
বাধা বিদ্যমান। তবে প্রযুক্তি
ও উদ্যোক্তা তৈরীতে নিজেদের অর্থ ব্যয় করে
যারা কাজ করছেন, তাদের পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন হলে দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন
আনতে পারে। প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য মতে, গত
এক দশকে দেশে প্রায়
আড়াই হাজারের বেশি দেশীয়
স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। যা
প্রায় ১৫ লাখ মানুষের
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রাখছে। জানা গেছে,
‘বিকাশ‘ দেশের প্রথম ইউনিকর্ন হিসেবে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন
করে। পাশাপাশি ‘পাঠাও‘ রাইড শেয়ারিং এবং
লজিস্টিকস খাতে প্রযুক্তির অভূতপূর্ব
সাফল্য অর্জন করেছে। এ ছাড়া ‘শপআপ‘৭৫ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ
করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের
সাপ্লাই চেইনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অপরদিকে,
স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘অতিথি ডট
কম‘ প্রযুক্তির সাথে যুক্ত গ্রাহকদের উন্নত সেবা দিতে ‘অতিথি অ্যাপ‘ নামে দুটি বিজনেস প্লাটফর্ম তৈরী করেছে।
এর মাধ্যমে স্থানীয়
ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং প্রযুক্তি
নির্ভর বিজনেসের প্রসারে ভূমিকা রাখছে। যেখানে একজন গ্রাহক
হাতের মুঠোয় পেয়ে যাবেন ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সকল ভ্রমণ সেবা। এ ছাড়াও সহজে দেশি-বিদেশি
নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা যাবে এ অ্যাপগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে। একইসঙ্গে ব্যবসাকে
ত্বরান্বিত করতে ‘অতিথি‘
প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচী চালু রেখেছে। গ্লোবাল
স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম ইনডেক্স ২০২৪ অনুযায়ী, স্টার্টআপের
বিকাশে আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে।
বিশ্বের ১০০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৩। যেখানে ভারত
১৯তম, পাকিস্তান ৭১তম এবং শ্রীলঙ্কা
৭৬তম স্থানে রয়েছে। শুধু সিটি হিসাবে ঢাকার অবস্থান কিছুটা উন্নতি করে ১৫০টি সেরা
শহরের মধ্যে ১৪০তম। অপরদিকে, ঢাকাকেন্দ্রিক অর্থনীতি এবং অন্যান্য অঞ্চলে
পর্যাপ্ত প্রশাসনিক সুযোগের অভাবে অনেক স্টার্টআপের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।