শিক্ষার আরেকটি কার্যকরী মাধ্যম অনলাইনে পড়াশোনা

শিক্ষাক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়া সম্পূর্ণ নতুন যুগের দিকে পা বাড়িয়েছে। তবে এই যাত্রা কেবলমাত্র শুরু, গন্তব্য এখনো বহুদূর। কিন্তু যদি সঠিক ইচ্ছা থাকে, তবে উপযুক্ত পলি...

শিক্ষাক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়া সম্পূর্ণ নতুন যুগের দিকে পা বাড়িয়েছে। তবে এই যাত্রা কেবলমাত্র শুরু, গন্তব্য এখনো বহুদূর। কিন্তু যদি সঠিক ইচ্ছা থাকে, তবে উপযুক্ত পলিসি এবং প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটিয়ে একটি বড় ও যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা সম্ভব।দক্ষিণ এশিয়ায় যাঁরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করছেন, তাঁদের ৭০ শতাংশেরও বেশি আসছেন মুঠোফোনের মাধ্যমে। ল্যাপটপ বা কম্পিউটার নয়, হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোনটিই হয়ে উঠেছে তাদের পাঠশালা। বাংলাদেশেও ইন্টারনেটের প্রসার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রান্তিক বা গ্রামের শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই অনলাইন ক্লাস এবং অ্যাপভিত্তিক পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।লক্ষকোটি তরুণের হাতে থাকা ছোট্ট স্মার্টফোনটি আদতে শুধু ফোন নয়, সেটি হচ্ছে এক একটি খোলা জানালার মতো, যা পৃথিবীর সমস্ত জ্ঞানকে চোখের সামনে হাজির করছে। শিক্ষাপ্রযুক্তি দিয়ে সেই জানালাকে সব সুবিধাবঞ্চিত এবং প্রান্তিক মানুষের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করাই দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর ভবিষ্যৎ শিক্ষানীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হওয়া উচিত।স্কুলের বাইরে থাকা শিশুদের জন্য শিক্ষাপ্রযুক্তি আশার কথা শোনালেও এর আসল সুফল পেতে হলে আগে প্রয়োজন স্মার্ট ডিভাইস ও ইন্টারনেট। এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সার্বিক চিত্র বেশ অসম। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থা এবং বিশ্বব্যাংকের ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী জনসংখ্যার দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে আছে ভুটান। দক্ষিণ এশিয়ায় শিক্ষা প্রযুক্তির একটি শক্তিশালী ভিত্তি দাঁড় করাতে শুধু যন্ত্রনির্ভর না হয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। তবে প্রযুক্তির এই পথ পুরোপুরি মসৃণ নয়। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দুর্গম এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ অত্যন্ত নাজুক। দরিদ্র অনেক পরিবারের জন্য একটি স্মার্ট ডিভাইস কেনাও রীতিমতো কঠিন। অনেক দেশেই কম্পিউটারের ব্যবহার এত কম যে এটি ডিজিটাল শিক্ষার ভীত দুর্বল থাকার ইঙ্গিতই দেয়। এ ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ হলো, বহুমুখী অর্থায়নের মডেল তৈরি করা। গেমভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ কনটেন্ট তৈরিতে দক্ষ জনবল ও পর্যাপ্ত অবকাঠামো দরকার, যার বিশাল অভাব দক্ষিণ এশিয়ায় এখনো প্রবল।মানুষ উপলব্ধি করতে পারে, অনলাইনে পড়াশোনা মানে শিক্ষার মানের সঙ্গে আপস করা নয়, বরং এটি শিক্ষার আরেকটি কার্যকরী মাধ্যম। এরপর থেকে কখনো স্কুলে, আবার কখনো অনলাইনে এই হাইব্রিড পদ্ধতির মাধ্যমে শেখাটা ধীরে ধীরে সবার কাছে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। শিক্ষা প্রযুক্তির এই প্রসারে সরকারি নানা উদ্যোগের পাশাপাশি কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে শত শত বেসরকারি সংস্থাও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে এডটেক বা শিক্ষাপ্রযুক্তি। এটি শুধু নতুন একটি প্রযুক্তিগত ধারণা হিসেবে নয়, বরং শিক্ষায় দীর্ঘদিনের বৈষম্য ঘোচানোর মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবেই এখন ব্যাপক পরিচিতি পাচ্ছে।মাঠের কাজ সেরে বাড়ি ফিরে যে কিশোর হয়তো আগে বইয়ের পাতা ওলটানোর সুযোগ পেত না, সে এখন মুঠোফোনের স্ক্রিনে ভিডিও লেকচার দেখছে। দক্ষিণ এশিয়ার গ্রামে গ্রামে এই চিত্র এখন আর খুব বেশি অপরিচিত নয়। স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের হাত ধরে শিক্ষা আস্তে আস্তে পৌঁছে যাচ্ছে সেই সব মানুষের কাছে, যাঁদের জন্য এত দিন শ্রেণিকক্ষের দরজা একপ্রকার বন্ধই ছিল। তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থা (আইটিইউ), বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও ইউনেসকো, ২০২৩