শ্রমবাজারে মহা অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ!
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধের দিকে তাকিয়ে আছে বাংলাদেশের শ্রমবাজার। একই সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার অপেক্ষায় বিকল্প শ্রমবাজারের কর্মীরা। কারণ মধ্যপ্রাচ্য...
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধের দিকে তাকিয়ে আছে বাংলাদেশের শ্রমবাজার। একই সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার অপেক্ষায় বিকল্প শ্রমবাজারের কর্মীরা। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রভাব ফেলে রাশিয়ার শ্রমবাজারে। রাশিয়া শ্রমবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, রাশিয়া বাংলাদেশের সম্ভাবনার শ্রমবাজার হলেও গুটি কয়েক বাংলাদেশির রাশিয়ায় যুদ্ধে জড়িয়ে যাওয়া ও কতিপয় অসাধু রপ্তানিকারকের এ ধরনের মানব পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকা রাশিয়ার বাজারেও ক্ষতি করেছে। অথচ যুদ্ধ বন্ধ হলে সত্যিকার রপ্তানিকারকদের মাধ্যমে রাশিয়াতেও বাংলাদেশের বড় বিকল্প বাজারের হাতছানি রয়েছে। তাই বাংলাদেশের শ্রমবাজার শুধু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধেরও অপেক্ষায় আছে৷মধ্যপ্রাচ্যে ও মধ্যপ্রাচ্যকে ট্রানজিট করে যাওয়া সব শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানো এক মাস ধরে প্রায় শূন্যের কোঠায়। এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে যে বিরূপ প্রভাব পড়বে তা কল্পনাতীত বলে মনে করছেন অভিবাসনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বাংলাদেশের মোট অভিবাসীর সর্বোচ্চ ৬৭ শতাংশ যায় সৌদি আরবে৷ সে হিসেবে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের অর্ধেকের বেশি যায় শুধু এই দেশটিতে। শ্রমবাজারের দ্বিতীয় স্থানে কাতার, চতুর্থ কুয়েত, ষষ্ঠ আরব আমিরাত এবং সপ্তম স্থানে জর্ডান। এখন শ্রমবাজার এক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে চলতি মাসের শুরুতে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের শুরু হওয়া যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ড্রোন হামলার কারণে।ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে। ওমান, জেদ্দাসহ মাত্র কয়েকটি বিমানবন্দর খোলা থাকলেও এভাবে সাধারণ অভিবাসী কর্মীদের জন্য তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ কার্যত বন্ধ রয়েছে৷ বিএমইটি বলছে, প্রায় ৮০০ ফ্লাইট বাতিলের কারণে যেতে পারেননি কমপক্ষে ৬৫ হাজার অভিবাসী কর্মী। কারণ ফ্লাইট বন্ধের ঠিক আগের মাসেও বিভিন্ন দেশে গেছেন ৬৫ হাজার ৬১৩ জন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য বিএমইটির ছাড়পত্র নেওয়ার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে আগের চেয়ে তিন ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে।মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজারের পরিস্থিতি খুব খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের কারণে অনেকে নতুন করে সেখানে যেতে ভয় পাচ্ছেন। দেশে ফেরত আসারা পড়েছেন ভিসার মেয়াদ সংকটে। পরিস্থিতি এতটাই নেতিবাচক যে আমাদের আত্মবিশ্বাসও তলানিতে ঠেকেছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আমাদের কাছে ডিমান্ড নোট পাঠালেও আমরা কর্মী পাঠানোর অনিশ্চয়তার কারণে তা নিতে পারছি না। যুদ্ধের কারণে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে শ্রমবাজারে তৈরি হয়েছে মহা অনিশ্চয়তা। নতুন ভিসা ইস্যু হচ্ছে না। সৌদি আরবনির্ভরতা কমিয়ে এনে বিকল্প শ্রমবাজার তৈরি করা গেলে এত খারাপ পরিস্থিতিতে পড়ত না বাংলাদেশের শ্রমবাজার। ইউরোপ ও জাপানের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার মতো সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারও নানা কারণে চালু করা যাচ্ছে না৷ কথাগুলো বলেন জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম এবং আরেক জনশক্তি রপ্তানিকারক মোবারক উল্ল্যাহ শিমুল৷