সুরের ভূবনে আলোর দিশারী কণ্ঠশিল্পী সুমাইরা সঙ্গী

বিনোদন প্রতিবেদক:সংগীতের প্রতি অগাধ ভালোবাসা, নিরলস সাধনা আর মঞ্চে নিজস্ব উপস্থিতির মাধ্যমে ধীরে ধীরে শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন কণ্ঠশিল্পী সুমাইরা সঙ্গী...

বিনোদন প্রতিবেদক:সংগীতের প্রতি অগাধ ভালোবাসা, নিরলস সাধনা আর মঞ্চে নিজস্ব উপস্থিতির মাধ্যমে ধীরে ধীরে শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন কণ্ঠশিল্পী সুমাইরা সঙ্গী। গান শুধু পেশা নয়, বরং জীবনবোধ, অনুভূতি এবং আত্মপরিচয়ের এক গভীর অংশ। সুর, সংগীত আর মঞ্চজীবনের সঙ্গে সম্পর্ক শৈশব থেকেই। জানা যায়  সুমাইরা সঙ্গীর গানের হাতেখড়ি হয়েছে পারিবারিক পরিবেশেই।সম্প্রতি সংগীত নিয়ে নিজের ভাবনা, শৈশবের স্মৃতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন এই শিল্পী। সুমাইরা সঙ্গী বলেন, আমার গানের শুরুটা বাবার কাছ থেকেই। ছোটবেলা থেকেই বাসায় সংগীতচর্চার পরিবেশ ছিল। পরে আমি দীর্ঘদিন ওস্তাদ নিয়াজ মোঃ চৌধুরী ও শফি মন্ডলের কাছে তালিম নিয়েছি। তাদের কাছ থেকে শেখা আমার সংগীতজীবনের ভিতকে অনেক মজবুত করেছে। তিনি জানান, খুব অল্প বয়স থেকেই সংগীতের সঙ্গে তার গভীর পথচলা শুরু হয়। মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই গান করা শুরু করেন তিনি। এরপর থেকে নিয়মিত অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্টেজ শো ও সংগীতানুষ্ঠানে। শৈশবের সেই শুরু থেকে মঞ্চে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাসই আজ তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে। সুমাইরা বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি নিয়মিত স্টেজ শো করেছি। দর্শকের সামনে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। ২০১৪ সালে ‘ম্যাজিক বাউলিয়ানা -তে অংশগ্রহণ আমার সংগীতজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।নিজের বেড়ে ওঠা প্রসঙ্গে এই কণ্ঠশিল্পী জানান, তার শৈশব কেটেছে কুষ্টিয়া ও ঢাকায়। জন্ম কুষ্টিয়ায় হলেও বর্তমানে ঢাকাতেও নিয়মিত বসবাস করছেন তিনি। কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক আবহ, বিশেষ করে লোকসংগীতের ঐতিহ্য, তার শিল্পীসত্তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে বলেও মনে করেন তিনি। গানকে ঘিরেই নিজের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে চান সুমাইরা সঙ্গী। সংগীতকে শুধু ভালোবাসার জায়গা নয়, বরং জীবন ও পেশা হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন,আমি গান নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে চাই। নিয়মিত চর্চা, নতুন গান শেখা এবং বিভিন্ন মঞ্চে পরিবেশনার মাধ্যমে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে চাই। আমি চাই সংগীতের মধ্য দিয়েই আমার পরিচয় আরও বিস্তৃত হোক। শুধু আধুনিক গান নয়, দেশের লোকসংগীত, বিশেষ করে লালনগীতি নিয়েও রয়েছে তার বিশেষ আগ্রহ। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা লোকসংগীতকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে চান তিনি। তার ভাষায়,আমাদের লোকসংগীতের ভাণ্ডার খুব সমৃদ্ধ। বিশেষ করে লালনগীতি আমাদের সংস্কৃতির বড় সম্পদ। আমি চাই নতুন প্রজন্মও এই গানগুলোর সৌন্দর্য ও গভীরতা অনুভব করুক।সংগীতকে হৃদয়ে ধারণ করে, সুরকে সঙ্গী করে এবং স্বপ্নকে সামনে রেখে এগিয়ে চলেছেন সুমাইরা সঙ্গী। প্রতিভা, অধ্যবসায় আর আন্তরিকতা থাকলে সংগীতের আকাশে তিনি আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবেন, এমনটাই প্রত্যাশা তার শ্রোতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।