স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ কোনো দলের নয়, এটি ছিল জনযুদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সকল...

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সকল জাতীয় নেতৃবৃন্দকে জানাই কৃতজ্ঞতা। সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা, আহত ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের সাহসী জনগণের অবদানকে স্মরণ করছি, যাঁদের অনন্য অবদানে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ।’বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবজনক অধ্যায় স্বাধীনতা ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। এখানে উপস্থিত আপনাদের অনেকেই সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন নৃশংসতা প্রত্যক্ষ করেছেন, দুঃখ–দুর্দশা নির্যাতন–নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সেবাবাহিনীকে পরাজিত করে মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। সুতরাং প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম স্বাধীনতার এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা নিয়ে আলোচনা হবে, এটা স্বাভাবিক। তবে আলোচনা, সমালোচনা বা গবেষণার নামে এমন কিছু করা বা বলা যাবে না, যা আমাদের স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধের যে গৌরব অথবা ইতিহাসকে কোনোভাবে খাটো করে, অবমূল্যায়ন হয় মুক্তিযুদ্ধের গৌরবজনক ইতিহাসের। আমাদের মনে রাখতে হবে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ কোনো দলের নয়, এটি ছিল জনযুদ্ধ।১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছি লাখো প্রাণের বিনিময়ে, ২০২৪ সালে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষা করেছি হাজারো প্রাণের বিনিময়ে। প্রতিটি প্রাণেরই ছিল একটি স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা। সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য তারা সাহসের সঙ্গে অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করেছিলেন। নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন। ১৯৭১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সকল শহীদের আকাঙ্ক্ষা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক তাঁবেদারমুক্ত একটি স্বাধীন সার্বভৌম নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। আমাদের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমাদের সাধ এবং সাধ্যের মধ্যে ফারাক থাকলেও আমি বিশ্বাস করি, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই, তাহলে স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা অসম্ভব নয়। সমাজের একটি অংশ নয়, আমরা সবাই মিলে ভালো থাকব, আমরা সবাই মিলে ভালো থাকার চেষ্টা করব এবং ভালো থাকব। এটিই হোক আমাদের এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার।বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতিত্বে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ২৭ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথাগুলো বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।উক্ত সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য দেন। এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ওয়াকিল আহমেদ, অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ৷